উত্তর গাজায় একদিনে ফিরলেন তিন লাখের বেশি ফিলিস্তিনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরাঞ্চলে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) একদিনেই ফিরেছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ। গাজার জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর তাণ্ডবের কারণে উত্তর গাজার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৪৭০ দিন পর তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসছেন।
ইসরাইলি বাহিনীর ১৫ মাসের ধ্বংসযজ্ঞে উত্তর গাজার কোনো বাড়িঘর অক্ষত নেই। তবে এতদিন পর নিজেদের এলাকায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। সোমবার সকাল থেকেই নেৎজারিম করিডোর দিয়ে হাজারো ফিলিস্তিনি তাদের মালপত্র নিয়ে ঘোড়া, গাধার গাড়ি কিংবা পায়ে হেঁটে উত্তর গাজায় প্রবেশ করেন।
উত্তর গাজার কেন্দ্রীয় শহর গাজা সিটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে ঝুলছে ‘গাজায় স্বাগতম’ লেখা একটি ব্যানার। ফিরে আসা এক তরুণী লামিস আল ইওয়াদি এএফপিকে বলেন, “আজকের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এতদিন মনে হচ্ছিল আমি মৃত ছিলাম। আজ যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”
হামাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য অন্তত ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবুর প্রয়োজন হবে।
পটভূমি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরাইলি ভূখণ্ডে নজিরবিহীন হামলা চালায়, যেখানে ১,২০০ জন নিহত ও ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ জিম্মি হয়। এর পর থেকেই ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।
১৫ মাস ধরে চলা এই অভিযান ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতায় ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। এর ফলে গাজা থেকে পালিয়ে থাকা বাসিন্দারা আবার ফিরে আসতে শুরু করেছেন।