ধ্বংসস্তূপের গাজায় ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা, সংকটে নবজাতক ও গর্ভবতীরা - দিগন্ত জার্নাল

ধ্বংসস্তূপের গাজায় ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা, সংকটে নবজাতক ও গর্ভবতীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতির পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। তবে ফিরে পেয়েছেন শুধু নিজেদের ভূমি, ঘরবাড়ি আর নেই। সোমবার আল–রশিদ স্ট্রিট খুলে দেওয়ার পর লাখো ফিলিস্তিনি নিজ এলাকায় ফিরেছেন। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই আনন্দ ও বেদনায় মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

বাস্তবতার মুখোমুখি: ৪৪ বছর বয়সি সাবরাইন জানুন জানান, স্বজনদের ফিরে পেয়ে খুশি হলেও নিজের বাড়ি হারানোর বেদনা সহ্য করা কঠিন। তিনি বলেন, “আমার বাড়িটা আর নেই, কিন্তু পরিবারকে ফিরে পেয়েছি।”

ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সোমবার সকালে আল-রশিদ স্ট্রিট খুলে দেওয়া হলে দুই ঘণ্টার মধ্যে দুই লাখের বেশি ফিলিস্তিনি উত্তর গাজায় প্রবেশ করেন। দিন শেষে এ সংখ্যা পৌঁছায় তিন লাখে।

স্বাস্থ্যসেবা সংকট: গাজার মানবিক পরিস্থিতি চরমে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকরা ভয়াবহ সংকটে রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

নবজাতকদের দুর্দশা: গাজার হাসপাতালে ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে এক ইনকিউবেটরে চার-পাঁচটি শিশুকে রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত যত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অনেক নবজাতক মারা যাচ্ছে। শীতের ঠাণ্ডায় আশ্রয়ের অভাবে অনেক নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন: এইচআরডব্লিউ বলছে, ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। অবরোধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য এবং পানীয় জলের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না এবং দ্রুত হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

১৫ মাসের যুদ্ধের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও গাজায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে এখনো বহু পথ বাকি। গাজার মানুষের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

an adbox will go here