কুষ্টিয়ার আদালতে হাসানুল হক ইনু’র হাতকড়া খুলে দেন পুলিশ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
কুষ্টিয়ায় জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া কারাগার থেকে তাদের কুষ্টিয়া আদালতে আনা হয়। ধার্য দিনে কুষ্টিয়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানার আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এজলাসে কাঠগড়ায় হাতকড়া পরিয়ে রাখায় হট্টগোল ও পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান ইনু। পরে ইনুর হাতকড়া খুলে দেন পুলিশ। এ সময় সাবেক এমপি জর্জ এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যদিও পুলিশ তাকে হাতকড়া খুলে দিতে গেলেও তিনি তা খুলতে দেননি।
শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে তাদের আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় জাসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের দেখতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, এবং আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ইনু ও জর্জকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। কাঠগড়ায় হাতকড়া পরানো নিয়ে আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জর্জ ও ইনু।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের ইসলামিয়া কলেজ এলাকায় আন্দোলনকারীদের গুলি করে ও এলোপাতাড়ি মারপিট করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর আহত আন্দোলনকারী শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার ৩৩ নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ এবং ৩৭ নম্বর আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।