ছাত্রনেতাদের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নানা প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ছাত্রনেতাদের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। বৈঠকে নেতারা মনে করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্ররোচনায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ঘোষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এভাবে চলমান শাসন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হতে পারে।
(৩০ ডিসেম্বর২০২৪) সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্রনেতাদের ঘোষণাপত্র এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিবরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রনেতারা এককভাবে ঘোষণাপত্র দিলে দেশে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রদের এই উদ্যোগ দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের দাবি নিয়ে দেশে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নেতাদের অভিমত, ঘোষণাপত্রে ছাত্রদের কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা কারা করছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। কিছু নেতা দাবি করেন, ছাত্রদের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি, আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস এবং সমন্বয়কারীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
(৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ঘোষণাপত্র প্রকাশের আগে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র তৈরির কথা জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং তাদের কর্মসূচি পরিবর্তন করে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ পালন করে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ সম্ভাব্য সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। তবে ছাত্রদের এই ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।