পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্র, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ হয়েছে একটি নতুন স্বল্পপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ‘ফতেহ টু’। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফতেহ টু’ ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এস-৪০০-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ভারতীয় বিমান বাহিনী মূলত রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’কে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে, এস-৪০০-এর তিনটি ইউনিট পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে। তবে, পাকিস্তান দাবি করছে যে ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর ‘অ্যান্টিডট’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা এস-৪০০’কে ভেদ করতে সক্ষম।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। ইসলামাবাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং এটি যুদ্ধের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু, সেনাছাউনি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কমান্ড সেন্টার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারে।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস’ (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ‘ফতেহ টু’-তে অত্যাধুনিক দিক নির্দেশকারী ব্যবস্থা (নেভিগেশন সিস্টেম) রয়েছে, যা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধের সময়ে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের একটি গাড়ির ওপর মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি ‘এস-৪০০’কে সরাসরি নিশানা না করে এর সাথে যুক্ত রাডার এবং কমান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেমে আঘাত হানে, তবে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পাকিস্তান বাহিনী ভারতের মজবুত প্রতিরক্ষার বেড়াজাল ভাঙতে এই নতুন অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করবে।
এর পাশাপাশি, ‘ফতেহ টু’ পাকিস্তানকে পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের বিমান ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করার সুযোগ প্রদান করবে এবং জম্মু-কাশ্মীর ও সিন্ধু নদী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র,ও এর লক্ষ্য হতে পারে।