বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে উত্তাল পাকিস্তান: জিন্নাহর সমর্থন ও বর্তমান পরিস্থিতি - দিগন্ত জার্নাল

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে উত্তাল পাকিস্তান: জিন্নাহর সমর্থন ও বর্তমান পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সম্প্রতি পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন জিম্মি করে স্থানীয় বিদ্রোহীরা। ট্রেনে থাকা প্রায় সাড়ে ৫শ যাত্রীকে উদ্ধার অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৩৩ বিদ্রোহী নিহত হয়। এ ঘটনার পরপরই আলোচনায় উঠে এসেছে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্ন।

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। ১৯৪৭ সালের ২২৭ দিন পর্যন্ত বেলুচিস্তান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ছিল। তারা পাকিস্তানের অংশ হতে চায়নি এবং জিন্নাহও তখন তাদের সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার পর ভারত বা পাকিস্তানে স্বতন্ত্র রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা স্থায়ীভাবে বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ, ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশ এবং আফগানিস্তানের একটি অংশে বিভক্ত প্রাচীন বেলুচিস্তান। বেলুচরা সুন্নি মুসলমান হলেও ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে শিয়া অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে সুন্নি বেলুচ মুসলমানরা বসবাস করেন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেলুচিস্তানে বিদ্রোহের সুর উঠতে থাকে, বিশেষত চীনের গোয়াদর বন্দর ব্যবহারের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বেলুচরা এই বন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

বেলুচিস্তানের ইতিহাসে এক সময় কালাত রাজ্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল, যা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে চায়নি। কালাতের শাসককে তখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

বেলুচিস্তানকে পাকিস্তানের অংশ করার পর সেখানে ব্যাপক বিরোধ শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, পাকিস্তান এ অঞ্চলের মানুষের ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা উপেক্ষা করে তাদের ওপর সামরিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তান বেলুচিস্তানকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকলেও, সেখানে সামাজিক সংহতি ও একতা তৈরি হয়নি। বর্তমানে বেলুচিস্তানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং পাকিস্তানকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেলুচ জনগণের ক্ষোভ ও অনুভূতিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তান যতদিন বেলুচিস্তানকে শুধুমাত্র নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে, ততদিন এই সমস্যা সমাধান হবে না। পাকিস্তানের উচিত, বেলুচিস্তানের জনগণের অনুভূতি ও দাবিগুলিকে বুঝে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা।

an adbox will go here