ইস্তাম্বুলের মেয়র গ্রেফতার, তুরস্কে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শেষ - দিগন্ত জার্নাল

ইস্তাম্বুলের মেয়র গ্রেফতার, তুরস্কে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুকে গ্রেফতার করার পর তুরস্কজুড়ে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ১৯ মার্চ থেকে ৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন শেষে বিক্ষোভকারীরা বাড়ি ফিরে গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় সিএইচপির নেতা ওজগুল ওজেল আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং জানান, আগামীতে নতুন ফরমেটে আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ৭ দিন সফলভাবে আন্দোলন করেছি। যদি আবারও হামলা হয়, আমরা ৫ লাখ লোক নিয়ে ফিরে আসব। আমরা মাথানত করিনি, করব না।”

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এই আন্দোলন ঠাণ্ডা মাথায় মোকাবিলা করেছেন। সমঝোতার মাধ্যমে কোন রক্তপাত ছাড়াই আন্দোলন থামিয়ে তিনি তুরস্কের রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছেন, যার ফলে তুরস্ক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

ইমামোগলুর গ্রেফতার হওয়ার পর সিএইচপি একটি বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ৭ দিন ধরে ইস্তাম্বুল সিটি কর্পোরেশন অফিসের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জমায়েত করেছিল, যার ফলে তুরস্কের মুদ্রার মান ৬ শতাংশ কমে যায়। তবে, এই আন্দোলনটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়নি, কারণ সাধারণ জনগণ এতে খুব একটা যুক্ত হয়নি।

এদিকে, ইমামোগলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে, যা সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তার বিরুদ্ধে ৫৫৬ বিলিয়ন লিরার ফান্ড তসরুপের অভিযোগ রয়েছে, যার প্রমাণ বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও মিথ্যা বলা সম্ভব হয়নি।

প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে চললেও পরবর্তীতে আন্দোলনে সহিংসতা শুরু হলে পুলিশ ১,১৩৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে। এর পর, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সমঝোতা হয় এবং ইমামোগলুর স্থানে বিরোধীদল থেকে একজন ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এই সমঝোতার ফলে, তুরস্কে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এরদোগান শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধী দলকে ম্যানেজ করে পরিস্থিতি সামলেছেন। বর্তমানে, তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হলেও, এরদোগানের সামনে অর্থনীতির উন্নতি ও মুদ্রাস্ফীতি কমানোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এছাড়া, তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল আন্দোলন চলাকালে কোনো বড় সহায়তা পায়নি এবং কুর্দিরাও এই আন্দোলনে যোগ দেয়নি। এরদোগানের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করা।

an adbox will go here