রাজধানীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: পুলিশের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন - দিগন্ত জার্নাল

রাজধানীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: পুলিশের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রাজধানীর ধানমন্ডি ৮ নম্বর সড়কে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের গলির একটি ছয়তলা ভবনে ২৬ মার্চ ভোরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতদলের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ছেনি ও রেঞ্জের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতদলের সদস্যদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা ছাড়াও অন্তত তিনজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার পরিসংখ্যান

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে একের পর এক হামলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর। পুলিশের তথ্য মতে, সাত মাসে পুলিশের ওপর শতাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে (১৭টি করে)। এছাড়া ডিএমপিতে সাত, সিএমপিতে পাঁচ, রংপুর রেঞ্জে ১০, খুলনা রেঞ্জে ছয়টি, বরিশালে এক এবং সিলেট রেঞ্জে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত ২০ মার্চ রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) অভিযানে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা হয়। এছাড়া ২৩ মার্চ ঢাকার আশুলিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা বারবার হামলার শিকার হবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। আইনে বলা আছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ। ভবিষ্যতে যারা এ ধরনের অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক কনস্টেবল আশ্রাফ আলীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় উত্তেজিত ছাত্র-জনতার হামলায় ১৬ পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশের ওপর হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন মহল থেকে এসব হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পুলিশের ওপর এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে সরকার ও প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

an adbox will go here