শিক্ষক নিয়োগ আটকে পুনঃবিজ্ঞপ্তির ফাঁদে জবি, এক বিজ্ঞপ্তিতে পার ৩ বছর
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। এর মাঝে ২০২৩ সালের জুন এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি একই পদের জন্য পুনঃবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জবির অন্তত ১৩টি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পুনঃবিজ্ঞপ্তির চক্রে আটকে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন পুরনো শূন্যপদগুলো পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে নতুন পদ খালি হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষক সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে এবং ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বয়স ২ থেকে ৩ বছর। এর মধ্যে প্রয়াত উপাচার্য ইমদাদুল হকের সময়ে কিছু নিয়োগের জন্য প্ল্যানিং কমিটির অনুমোদন ও বাছাই বোর্ড গঠনের কাজ শেষ হলেও, তার ক্যানসারজনিত মৃত্যুতে প্রক্রিয়াগুলো থমকে যায়। পরবর্তী উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম দায়িত্ব নিয়ে সব নিয়োগে পুনঃবিজ্ঞপ্তি দেন। তবে কোটাবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনিও পদত্যাগে বাধ্য হন।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ১৩টি বিভাগে ২১টি পদের জন্য পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম বলেন, “একটা বিভাগে যখন শিক্ষক সংকট দেখা দেয়, তখনই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে তিন বছর লেগে যাচ্ছে। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগে এই দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রবণতাকে ‘খারাপ প্র্যাকটিস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে হয়তো সবার জন্য বাধাহীনভাবে আবেদন করার সুযোগ ছিল না। এখন সবাইকে সমান সুযোগ দিতে আমরা পুনঃবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই নিয়োগ সম্পন্ন করে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।”