গাজার শিশুদের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লো বাংলাদেশি শিশু - দিগন্ত জার্নাল

গাজার শিশুদের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লো বাংলাদেশি শিশু

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার,১২ এপ্রিল ২০২৫ || আমি একজন মুসলিম হয়ে চুপ থাকতে পারিনি। কেন ছোট বাচ্চাদের ওপর অত্যাচার করছে ইসরাইলিরা?”—কথাগুলো বলতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে ফেলেছে এক বাংলাদেশি শিশু। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে বাবার হাত ধরে অংশ নেয় শিশুটি।

শিশুটির আবেগঘন বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অনেকেই শিশুটির কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

‘ঈদের দিনেও গুলি খেয়েছে ওরা’

শিশুটি বলে, “ফিলিস্তিনে আমার মতো ছোট বাচ্চারা ঘাস, লতা-পাতা খেয়ে বেঁচে আছে। আমরা ঈদে ভালো খাবার খেয়েছি, আর ওরা ঈদের দিনেও গুলি খেয়েছে। ওদের জন্য সবসময় দোয়া করি।”

এক সাংবাদিক জানতে চাওয়ায় শিশুটি জানায়, সে বাবার কাছেই অনুরোধ করেছিল ‘মার্চ ফর গাজা’তে যোগ দিতে। তার বাবা জানান, “ফিলিস্তিনের শিশুদের নির্যাতনের ভিডিও দেখে সে বাসায় বসেই কাঁদে এবং দোয়া করে। যখন শুনল এই কর্মসূচির কথা, তখনই বলল, ‘বাবা, আমি তোমার সঙ্গে যাব।’”

‘সন্তানদের প্রতিবাদে শামিল করাও ঈমানি দায়িত্ব’

শিশুটির বাবা বলেন, “এই কর্মসূচিতে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। মানবতার মুক্তি ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই। পাশাপাশি চাই আমাদের সন্তানরা যেন ইসলামের ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে বড় হয়।”

নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

শিশুটির কান্না ছুঁয়ে গেছে হাজারো মানুষের হৃদয়। তৌহিদ খান সজল বলেন, “এই ছোট্ট বোনের কান্না দেখে নিজের কান্না থামাতে পারিনি। আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করুন।”

পারু আখতার দোয়া করেন, “আল্লাহ, আপনি এই ছোট্ট শিশুর চোখের পানি কবুল করুন।”

আরেকজন নেটিজেন শাহান লেখেন, “এই ছোট বোনের কান্না দেখে নিজেরই চোখে পানি চলে এসেছে।” অনেকে আরও লেখেন, “আমিও কাঁদেছি, আর সহ্য হচ্ছে না,” “এই কান্না বৃথা যাক না হে আল্লাহ,” “আমাদের সন্তানরাও যেন এমন সচেতন হয়।”

এই ছোট্ট শিশুর সরল কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ, গাজার শিশুদের প্রতি তার মমতা ও সংবেদনশীলতা বাংলাদেশি সমাজে মানবতা, সংহতি এবং ইসলামি মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

an adbox will go here