ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত - দিগন্ত জার্নাল

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫ | ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে আবারো উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার জেরে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আটারি সীমান্ত বন্ধ, কূটনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা হ্রাস, ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় দশকের পুরনো সিন্ধু পানি চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিতসহ বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ও ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান ভারতের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সহকারীদের দেশ ছাড়তে বলেছে এবং কূটনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারত যদি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, তবে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে। পাকিস্তান সিমলা চুক্তিসহ সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্থগিত করার অধিকারের কথাও জানিয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে— পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মোট কতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে এবং সেগুলোর ধরন কী? পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মোট ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, ভিসা, পারমাণবিক অস্ত্রের তালিকা বিনিময়, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি বণ্টন এবং পারমাণবিক পরীক্ষার আগাম সতর্কতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উল্লেখযোগ্য চুক্তির মধ্যে আছে কাস্টমস সহায়তা, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগাম বার্তা বিনিময়, আকাশসীমা লঙ্ঘন রোধ, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, টেলিযোগাযোগ, রেলওয়ে ও বিমান যোগাযোগ, আয়কর পরিহার চুক্তি এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষায় নেহরু-লিয়াকত চুক্তি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সিমলা চুক্তি, যা ১৯৭২ সালের ২ জুলাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে সই হয়। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তকে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং দুই দেশের মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হলো ১৯৮৮ সালের ‘পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’, যেখানে উভয় দেশ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না করার অঙ্গীকার করে এবং প্রতি বছর পারমাণবিক স্থাপনার তালিকা বিনিময় করে। ১৯৯১ সালে ‘সেনা মহড়া ও সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে আগাম বার্তা’ এবং ‘আকাশসীমা লঙ্ঘন প্রতিরোধ চুক্তি’ সই হয়, যা সামরিক স্বচ্ছতা ও ভুল বোঝাবুঝি রোধের জন্য করা হয়।

২০০৫ সালে সই হওয়া ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে অগ্রিম জানানোর চুক্তি’ এবং ২০০৭ সালের ‘পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর চুক্তি’ও দুই দেশের পারমাণবিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ১৯৯৯ সালের ‘লাহোর ঘোষণাপত্র’ দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে একটি বড় পদক্ষেপ ছিল।

বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো বাতিল বা স্থগিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

an adbox will go here