কাশ্মিরে হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, শিমলা চুক্তি বাতিলের হুমকি ইসলামাবাদের - দিগন্ত জার্নাল

কাশ্মিরে হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, শিমলা চুক্তি বাতিলের হুমকি ইসলামাবাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কাশ্মিরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তেজনায় পড়েছে। ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মিরের পর্যটননগরী পাহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন। এরপর থেকেই দুই দেশ পাল্টাপাল্টি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। কাশ্মির হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬০ বছরের পুরনো সিন্ধু পানি চুক্তির স্থগিতাদেশ, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম বন্ধ, সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা এবং পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সংখ্যা হ্রাস।

এর জবাবে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি একই ধরনের পদক্ষেপ ঘোষণা করে। তারা বাণিজ্য ও আকাশসীমা স্থগিত করে, সীমান্ত বন্ধ করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, বিশেষ করে ঐতিহাসিক শিমলা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেয়।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সাত মাস পর, ১৯৭২ সালের ২ জুলাই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো হিমাচল প্রদেশের শিমলায় শিমলা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ ও কাশ্মির ইস্যু শান্তিপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক উপায়ে সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রদান। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দি প্রায় ৯০,০০০ পাকিস্তানি সেনার মুক্তির পথও খুলে যায়।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ আহমের বিলাল সূফি মনে করেন, শিমলা চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো যা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল। চুক্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তানকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মুশতাক আহমদ জানান, ভারত দীর্ঘদিন ধরে শিমলা চুক্তিকে জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলির ওপরে স্থান দিয়েছে এবং কাশ্মিরকে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। পাকিস্তান মনে করে, এই চুক্তি জাতিসংঘের সিদ্ধান্তগুলোকে পুনর্ব্যক্ত করে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অতীতে সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের মতো সংঘাত হয়েছে। তাই শিমলা চুক্তি বাতিল সরাসরি যুদ্ধ ডেকে আনবে না, তবে সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শিমলা চুক্তি বাতিল করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদের উদ্দেশ্য হলো কাশ্মির ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলতে বহুপাক্ষিক সমর্থন খোঁজা। সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের মতো ভারতের পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানও কৌশলগতভাবে কঠোর বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চুক্তি বাতিল হলে সীমান্তে সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে এবং শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার যে মাত্রা, তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

an adbox will go here