মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মহাসম্মেলন হজ : প্রস্তুতি ও পালন পদ্ধতি - দিগন্ত জার্নাল

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মহাসম্মেলন হজ : প্রস্তুতি ও পালন পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শুক্রবার , (৯ মে ২০২৫) মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য নিদর্শন হজ। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে কোটি মুসলমান হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় গমন করেন। ইতোমধ্যে অনেকেই মক্কায় পৌঁছে গেছেন এবং অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন রওয়ানা দেওয়ার। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন ২০২৫ (৮ জিলহজ) হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। হজ পালনকারী হাজিদের সহযোগিতায় গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ অ্যান্ড ঈদগাহ সোসাইটির সাবেক নির্বাহী সদস্য মরহুম আলহাজ শেখ গোলাম মুহীউদ্দীন (রহ.)-এর রচিত ‘কিতাবুল হজ’ অবলম্বনে হজ পালনের সহজ পদ্ধতি তুলে ধরেছেন মুফতি তোফায়েল গাজালি।

তালবিয়া পাঠ
‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা, লাকা ওয়াল্ মুলক, লা-শারিকা লাক।’
(অর্থ : আমি হাজির, হে আল্লাহ্! আমি হাজির, আমি হাজির, কোনো শরিক নেই তোমার, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই, আর সব সাম্রাজ্যও তোমার, কোনো শরিক নেই তোমার।)

যা সঙ্গে নেবেন
দুই সেট ইহরামের কাপড়, ইহরামে ব্যবহারের জন্য স্যান্ডেল, কাঁধে ঝোলার ব্যাগ, প্রয়োজনীয় জামাকাপড়, গামছা, তোয়ালে, ছাতা, টুথপেস্ট, মিসওয়াক, ওষুধপত্র, নোটবুক, কলম, মহিলাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং লাগেজ।

ইহরাম বাঁধা ও নিয়ম
যাঁরা সরাসরি মক্কায় যাবেন, তাঁদের বিমানে ওঠার আগেই ইহরাম বাঁধা জরুরি। যাঁরা প্রথমে মদিনায় যাবেন, তাঁরা ইহরাম ছাড়াই রওনা দিয়ে জেদ্দা হয়ে মদিনায় যাবেন এবং সেখান থেকে মক্কায় আসার পথে ইহরাম বাঁধবেন।

পুরুষের ইহরাম
ইহরামের আগে চুল, নখ কেটে গোসল করে আতর ব্যবহার করা, সেলাইবিহীন সাদা দুটি চাদর পরা, তালবিয়া পাঠ এবং নির্দিষ্ট স্যান্ডেল পরা বিধান রয়েছে।

নারীর ইহরাম
নারীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক নেই; সাধারণ কাপড়েই ইহরাম পালন করা যাবে। গোসল করা সুন্নাত। নফল নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকলে তা পড়া উত্তম। তালবিয়া নিচু স্বরে পড়তে হয়।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
সেলাইযুক্ত কাপড় পরা (পুরুষদের জন্য), মাথা-মুখ ঢাকা, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা, শিকার, দাম্পত্য সম্পর্ক, ঝগড়া, অশ্লীলতা—সবই নিষিদ্ধ।

তাওয়াফ
কাবা শরিফের চারপাশে সাত চক্কর ঘোরাকে তাওয়াফ বলা হয়। এর জন্য পবিত্রতা, নির্দিষ্ট দিক থেকে শুরু, হাজরে আসওয়াদে ইশারা, চক্কর শেষে নামাজ আদায় করা জরুরি।

সায়ী
সাফা-মারওয়ার মধ্যকার দৌড়ানো। সাত চক্কর এবং সবুজ স্তম্ভের মধ্যে দ্রুত চলা সুন্নাত। তাওয়াফ শেষ করেই সায়ী করা উত্তম।

ওমরাহ পালন
ওমরাহর ফরজ দুটি—ইহরাম ও তাওয়াফ। ওয়াজিব দুটি—সায়ী এবং মাথার চুল কাটা বা মুণ্ডন।

হজের প্রকারভেদ
১. হজে তামাত্তু: ওমরাহ করে ইহরাম খুলে পরে আবার হজের ইহরাম বাঁধা।
২. হজে কিরান: একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ পালন।
৩. হজে ইফরাদ: শুধুমাত্র হজের ইহরাম বাঁধা।

হজের ফরজ তিনটি
১. ইহরাম বাঁধা।
২. আরাফাতের ময়দানে এক মুহূর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে জিয়ারাহ (১০-১২ জিলহজের মধ্যে) করা।

হজের ওয়াজিবসমূহ
মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা, সায়ী, সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান, মুজদালিফায় মাগরিব ও এশা একত্রে আদায়, নির্ধারিত তারিখে জামরায় পাথর নিক্ষেপ ইত্যাদি।

হজ পালন করতে যাওয়া মুসলমানদের জন্য এসব নিয়ম-কানুন জানা ও মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেন তাঁদের হজ সঠিকভাবে পালিত হয় এবং কবুল হয় মহান আল্লাহর দরবারে।

an adbox will go here