ভারতে ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ অজুহাতে ইউটিউবে বন্ধ যমুনা টিভিসহ চার বাংলাদেশি চ্যানেল
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, ১০ মে ২০২৫
কাশ্মীর উত্তেজনা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বাড়ল কড়াকড়ি, প্রশ্ন উঠছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে
বাংলাদেশের চারটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলের ইউটিউব সম্প্রচার ভারতের ভিউয়ারদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। ভারত সরকারের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের গবেষণা শাখা ডিসমিসল্যাব।
কারা কারা পড়ল ব্লকের আওতায়?
ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, বাংলাভিশন এবং মোহনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলগুলো ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান থেকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না। ভারতীয় আইপি দিয়ে ইউটিউবের মাধ্যমে এই চ্যানেলগুলোতে প্রবেশ করতে গেলেই ভেসে উঠছে একটি বার্তা:
“এই কনটেন্টটি বর্তমানে এই দেশে প্রবেশযোগ্য নয়। কারণ, এটি জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সরকারি আদেশের আওতায় রয়েছে।”
ইউটিউবের ব্যাখ্যা ও চ্যানেলগুলোর প্রতিক্রিয়া
যমুনা টিভি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছে, তারা ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্লক-নোটিশ পেয়েছে। ইউটিউব জানায়, তারা ভারতের ‘ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিকস কোড রুলস’ অনুসরণ করে। এই আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব কিংবা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি মনে হলে কোনো কনটেন্ট বা চ্যানেলকে ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে ভারত সরকার।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটক হত্যাকাণ্ড ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের একটি সামরিক অভিযান চালানোর পর এই সিদ্ধান্তগুলো আরও কড়াকড়িভাবে কার্যকর হচ্ছে। এই অভিযানের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কয়েকটি চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, নিজ দেশের স্বাধীন সংবাদমাধ্যমও আক্রান্ত
ডিসমিসল্যাব আরও জানিয়েছে, শুধু বিদেশি চ্যানেল নয়, ভারতের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর ওয়েবসাইটও ব্লক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
এক্স-এর তথ্য: ৮ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লকের নির্দেশ
এর আগে সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) জানিয়েছিল, ভারত সরকার তাদের ৮ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে অনেক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও রয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই ধারা
বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম কর্মীরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার আড়ালে যেভাবে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভারত যে পদ্ধতিতে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারে বাধা দিচ্ছে, তা শুধু কূটনৈতিক নয়, সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।