খিলগাঁওয়ে সরকারি ৩২ কাঠা জমি বেদখল, চলছে মাদক ব্যবসা ও ভাড়া বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শুক্রবার, (১৬ মে ২০২৫) রাজধানীর শহর খিলগাঁও মৌজার সিএস ৩১২ নম্বর দাগে প্রায় ৩২ কাঠা সরকারি জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলএ কেস ৮০/৬০-৬১-এর আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তৈরি হয়েছে ভুয়া খতিয়ান, যার ভিত্তিতে দখলদাররা জমি বিক্রিও করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় ওই জমি থেকে রেলওয়ে লাইনের কাজে মাটি কেটে নেওয়ায় সেখানে একটি বড় জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে জলাশয়টি ভরাট করে দখলদাররা সেমিপাকা স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দেওয়া শুরু করে। গড়ে তুলেছে রিকশা-অটোরিকশার গ্যারেজ, দোকান, গরুর খামার এবং ঘিঞ্জি খুপরিঘর, যেগুলোতে চলছে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ। এতে করে অন্তত ২০০ পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ মো. সারওয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ২০১০ সালে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন এবং বিভিন্ন জনের কাছে জমি বিক্রি করেন। সিটি খতিয়ানের ৫৭৬ নম্বর খতিয়ানের ৭০৬ নম্বর দাগ থেকে ৭ ও ৮ কাঠা করে দুই দফায় জমি বিক্রির নথি রয়েছে। এছাড়াও আরও জমি বিক্রির চেষ্টার প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি খিলগাঁও মৌজার ৩১১ নম্বর দাগের ঝিল ও খালও মতি গংয়ের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধ দখলদারদের উপস্থিতি ও তাদের কার্যকলাপে এলাকায় নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অলিগলিতে প্রতিনিয়ত ইভটিজিং, চিৎকার ও অস্ত্রের মহড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এ নিয়ে বহুবার গণপূর্ত অধিদপ্তর ও রামপুরা থানায় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ মো. সারওয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, এসব অভিযোগ সত্য নয়। তবে পরে ভুয়া দলিলের বিষয় স্বীকার করে জানান, তাকে ভুল বুঝিয়ে কিছু রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং যাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন, তাদের এখন এলাকায় দেখা যায় না।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হবে।
সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।