বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ কমছে, মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
প্রকাশ- ২৯ মে ২০২৫
আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব উঠেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কম হতে পারে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে উন্নত দেশগুলো শিক্ষাকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, সেখানে বাংলাদেশে বরাদ্দ কমে যাওয়াটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনি সংকেত। জাতিসংঘের ইউনেসকো শিক্ষায় জিডিপির ৫-৬% অথবা মোট বাজেটের ২০% বরাদ্দের সুপারিশ করলেও বাংলাদেশে তা এখনো ২ শতাংশের নিচে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, “শিক্ষায় বরাদ্দের বেশিরভাগটাই যায় অবকাঠামো ও বেতনে, মান উন্নয়নে নয়। কারিগরি শিক্ষায় জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অভাব—সবই রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে ও দক্ষ মানবসম্পদে বিনিয়োগ না করলে উন্নয়ন থেমে যাবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “শুধু অর্থ নয়, দরকার মানসম্পন্ন শিক্ষক ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম। শিক্ষকতা যেন শেষ আশ্রয়স্থল না হয়, বরং প্রথম পছন্দ হয়—এটাই হওয়া উচিত।”
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষায় মোট বরাদ্দ ছিল ৯৪,৭১১ কোটি টাকা (বাজেটের ১১.৮৮%)। কিন্তু জিডিপির অনুপাতে এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ১.৬৯%—যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্বে অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
২০২৪ সালের গ্লোবাল এডুকেশন ইনডেক্সে বাংলাদেশ ১৪১টি দেশের মধ্যে ১১৩তম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও পিছিয়ে। শিক্ষাব্যবস্থায় পর্যাপ্ত গবেষণাগার, ল্যাব, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভাব স্পষ্ট।
শিক্ষাবিদদের প্রস্তাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে চাই:
- দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
- আধুনিক ও তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম
- গবেষণা ও ল্যাব সুবিধা
- গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতি
- শিক্ষকতায় আকর্ষণ বাড়াতে সুযোগ-সুবিধা
শিক্ষা বরাদ্দ কমানোর এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ‘মানসম্মত শিক্ষা’ অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।