অবহেলিত রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রথম সমাধিস্থল - দিগন্ত জার্নাল

অবহেলিত রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রথম সমাধিস্থল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শুক্রবার , (৩০ মে ২০২৫) মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমড়া পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হলেও তা এখনো অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাটি অনেকের কাছে ‘জিয়ানগর’ নামে পরিচিত হলেও সেখানে নেই নিরাপত্তাকর্মী, নৈশপ্রহরী কিংবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সমাধিস্থলের ফটকে প্রহরী না থাকায় দর্শনার্থীরা আসলে মসজিদের ইমামকে তালা খুলতে হয়।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। তাকে প্রথমে রাঙ্গুনিয়ার এই পাহাড়ি এলাকায় কবরস্থ করা হয়। পরে ২ দিন পর তাঁর মরদেহ ঢাকায় এনে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে পুনঃসমাহিত করা হয়। যদিও ঢাকায় চূড়ান্ত সমাধি হলেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আজও পোমড়া এলাকায় অবস্থিত প্রথম সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে আসে।

বিগত ১৬ বছরে রাজনীতিক কারণে সাধারণ মানুষ এই স্থানে প্রকাশ্যে আসতে পারত না। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়ানগর আবারও জনসমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ঐতিহাসিক সমাধিস্থলকে সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে ও শ্রদ্ধা জানাতে পারে।

সমাধিস্থলের পাশেই রয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন এতিম ও দুস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লা বলেন, “আমি যোগদানের পর থেকে ঝোপঝাড় কেটে কিছুটা পরিষ্কার করেছি। ফলের বাগান করেছি। তবে এখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মী বা নৈশপ্রহরী নেই। এমনকি দর্শনার্থীদের জন্য কোনো শৌচাগার সুবিধাও নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম খান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তার প্রথম কবর যেহেতু আমাদের এলাকায়, আমরা গর্বিত। কিন্তু সেই জায়গায় ন্যূনতম পরিচর্যা বা নিরাপত্তাও নেই, যা জাতির জন্য লজ্জার।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, তিনি সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন এবং কীভাবে এলাকাটি সংস্কার করে দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর করা যায়, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ স্থানটি শুধুই একটি কবরস্থান নয়, বরং বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নিদর্শন। তাই এর যথাযথ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এখন সময়ের দাবি।

an adbox will go here