লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী ধরপাকড়ে বিক্ষোভ, কারফিউ ও গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ – ১২ জুন ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে পুলিশ গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে। শহরের কেন্দ্রে একটি এলাকায় নৈশকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভাঙচুর এড়াতে মেয়র কারেন ব্যাস এ সিদ্ধান্ত নেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। হেলিকপ্টারে টহল দিচ্ছে পুলিশ। তবে এসবের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে শহরে বড় বিক্ষোভ হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস শহরকে ‘মুক্ত’ করতে চান এবং নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শহরটিতে সেনা মোতায়েন নিয়ে মেয়র কারেন ব্যাস ও গভর্নর গাভিন নিউসমের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। গভর্নর নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘গণতন্ত্রের অবমাননা’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ৪ হাজার ন্যাশনাল গার্ড ও ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সঠিক। শহরটিতে এখনো বিভিন্ন গ্রুপ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। মঙ্গলবার দিনে প্রায় ২০০ জন এবং আগের দিন আরও কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে মেয়র জানিয়েছেন।
মেয়র কারেন ব্যাস জানান, শহরের ২৩টি দোকানে লুট হওয়ায় তিনি বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল এক কিলোমিটার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন।
গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালান এবং ক্ষমতায় এসে ধরপাকড় শুরু করেন। এর প্রতিবাদে ডেমোক্র্যাটশাসিত অঙ্গরাজ্য লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে জর্জিয়ার আটলান্টা, নিউইয়র্কের ম্যানহাটান, টেক্সাস ও শিকাগোতেও। এসব জায়গায়ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।