ধর্মপাশায় জমি নিয়ে বি’রো’ধে পু’লিশের সামনেই হা’ম’লার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মঙ্গলবার, (১ জুলাই ২০২৫) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা বাজারে জমি সংক্রান্ত এক পুরনো বি’রো’ধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সদস্যদের উপর হা’ম’লার অভিযোগ উঠেছে। বিস্ময়ের বিষয়, এ ঘটনায় পু’লিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে ভু’ক্তভো’গী পরিবারের দাবি। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ওসি মা’ম’লা গ্রহণে নানা টালবাহানা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে আলতু মিয়া গাছতলা বাজারে নিজ মালিকানাধীন জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন এবং তা ভাড়া দেন ওয়াদুদ মিয়াকে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ওয়াদুদ ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে দোকানটির উপর নিজের মালিকানা দাবি করে বসেন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিসি বৈঠক করেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে ওয়াদুদ ঘোষণা দেন, “কোনো কাগজ না থাকলেও, এটা আমি ছাড়ব না—আমার দখলেই থাকবে।”
১২ জুন সন্ধ্যা সাতটার দিকে আলতু মিয়া তার পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আলোচনা করতে গেলে, ওয়াদুদ মিয়া পু’লিশকে ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চার সদস্যের একটি পু’লিশ টিম ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু সেই উপস্থিতিতেই লালধন নামে এক আত্মীয়ের উপর হা’ম’লা চালানো হয় এবং নারী সদস্যদেরও হে’ন’স্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পু’লিশ ঘটনাস্থলে থেকেও কোনো বাধা দেয়নি বরং একপর্যায়ে এক পু’লিশ সদস্য নিজেই লালধনকে মা’রধ’র করেন বলেও ভু’ক্তভো’গীরা জানান।
পরদিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ওসি শুরুতে সম্মতি দিয়ে পরে তা বিভিন্ন অজুহাতে ঝুলিয়ে দেন। একাধিকবার থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালেও তাঁরা মা’ম’লা দায়ের করতে পারেননি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওয়াদুদ মিয়া একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় থানার পক্ষপাতমূলক আচরণ স্পষ্ট। ধর্মপাশা থানার ওসির বিরুদ্ধে পূর্বেও এমন পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
ভু’ক্তভো’গী পরিবারের নারী সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এমনকি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। স্থানীয়দের মত, এমন ঘটনায় “পু’লিশ কারো নয়”—এই বিশ্বাস দিন দিন প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের মনে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিগণের বক্তব্য তুলে ধরা হলো__
প্রত্যক্ষদর্শী ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক আজিজুল হক বলেন ঘটনা সবই সত্য লালধন চলে গিয়েছিল পুলিশের কথায় আমি নিজেই ডেকে এনেছি এবং পুলিশ ওই প্রথমে লালধনের গায়ে হাত তুলে এবং ওয়াদুদ ও তার লোকজন তাদের উপরে চড়া হয় পরে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে
সালিশে উপস্থিত ধর্মপাশা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাঞ্চন মিয়া বলেন, আমি আপনাকে স্পষ্ট করে বলি আলতু মিয়ার জায়গা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র বৈধতা আছে আর ওয়াদুদ মিয়া জোরপূর্বক ভাবে দখল করে আছে । এবং এ বিষয়টা নিয়ে ধর্মপাশা থানার ওসির সঙ্গে স্পষ্ট বলেছি আমরা সালিশে উপস্থিত ছিলাম ওয়াদুদ শুধু দখল সত্যি মালিক এই জমি সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই।
সালিশে উপস্থিত শাহ কামাল জানান,উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমারা অনেকবার বসেছি কিন্তু কোন সুরাহা করতে পারিনি। এই জায়গার সকল কাগজপত্র আলতু মিয়ার পক্ষে আর ওয়াদুদ মিয়া শুধু দখল সত্যের মালিকানা দাবি করছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওয়াদুদ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, জমি আমার দখলে আছে। দখল সত্ত্বে কোর্টে মামলা করেছি যা রায় আসবে সেটা মেনে নিব
ধর্মপাশা থানার ওসির সংঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যে এবং ভিত্তি হীন বলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যেহেতু আমি ছিলাম না, সেহেতু আমার থানা পুলিশের সদস্যরা সেখানে কূ ভূমিকায় ছিলো তা আমার না জানাই স্বাভাবিক। আমার কাছে অভিযোগ করা হলে আমি তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। অপরাধী যেই হোন ছাড় দেয়া হবেনা।