চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যারিফ বাড়ছে গড়ে ৪০ শতাংশ, উদ্বিগ্ন আমদানি-রপ্তানিকারকরা - দিগন্ত জার্নাল

চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যারিফ বাড়ছে গড়ে ৪০ শতাংশ, উদ্বিগ্ন আমদানি-রপ্তানিকারকরা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭২টি সেবার ক্যাটাগরির মধ্যে ১৬৮টিতেই ট্যারিফ (মাশুল) বাড়ানো হচ্ছে। গড়ে ট্যারিফ বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর সম্পূর্ণ বোঝা পড়বে আমদানি-রপ্তানিকারকদের ওপর, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের ওপরও। দেশের অর্থনীতি যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈদেশিক বাণিজ্য সংকটে পড়ে চাপে রয়েছে, ঠিক তখন এই সিদ্ধান্তকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, ৩৯ বছর পর এই ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এখন এটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। গেজেটে উল্লেখ থাকবে, বাড়তি ট্যারিফ কবে থেকে কার্যকর হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জাহাজ প্রবেশ করার পর বহির্নোঙর থেকে জেটিতে আনা, পাইলট পাঠানো, টাগবোট সার্ভিস, পানি সরবরাহ, ক্রেন চার্জ, কনটেইনার ওঠানামা, পণ্য ডেলিভারি প্রভৃতি নানা সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবার বিপরীতে নির্ধারিত হারে মাশুল নেওয়া হয়, যা ‘ট্যারিফ’ নামে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় সব সেবার ক্ষেত্রেই গড়ে ৪০ শতাংশ হারে ট্যারিফ বাড়ানো হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা: বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে পুরোনো কাঠামোর সামঞ্জস্য নেই

নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের মতো এত কম খরচে শিপিং সেবা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। সময়ের সঙ্গে খরচ বেড়েছে, কিন্তু ট্যারিফ থেকে গেছে পুরোনো কাঠামোতেই। তাই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই বাস্তবসম্মত হারে ট্যারিফ পুনর্গঠন করা হয়েছে।”

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা: আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়ে যাবে বহুগুণে

বিজিপিএমইএ পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানির ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। এটি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হলে আমাদের পোশাক খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানো অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।”

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খাইরুল আলম সুজন বলেন, “বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে ট্যারিফ বাড়ালে ভালো হতো। কিন্তু একসঙ্গে সব সেবার ওপর ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকরা বিপদে পড়বেন। আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বাড়ার ফলে ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মুহূর্তে ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুষ্ঠু ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য ধাপে ধাপে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

an adbox will go here