ঢাকাকে ১০ অঞ্চলে ভাগ করে আন্দোলনের গতি নির্ধারণ: সাদিক কায়েম - দিগন্ত জার্নাল

ঢাকাকে ১০ অঞ্চলে ভাগ করে আন্দোলনের গতি নির্ধারণ: সাদিক কায়েম

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | গত বছরের ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক সাদিক কায়েম। তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইয়েনি সাফাককে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।

সাদিক বলেন,

“ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে বিক্ষোভের সিদ্ধান্তই পুরো আন্দোলনের ধারা পাল্টে দেয়।”

আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক ও সমন্বয়

সাদিক কায়েম জানান,

“১৮ জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, হত্যার ঘটনায় ভয় ছড়িয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় আন্দোলনের সমন্বয় দায়িত্ব আমার কাঁধে পড়ে। আমি প্রতিদিনের কর্মসূচি, বিবৃতি ও নেতাদের সংযোগ রক্ষা করি।”

তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় আন্দোলনের কৌশলগত নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও মাহফুজ আলম। মেধাস্রোতের অন্যতম ভরকেন্দ্র হিসেবে তিনি নাম বলেন ড. মির্জা গালিব-এর।

আন্দোলনে মাটি থেকে তথ্য তুলে আনেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) ও মোবাইল সাংবাদিকরা। আন্তর্জাতিক মহলে তথ্য পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জুলকারনাইন সায়ের (আল-জাজিরা), ইলিয়াস হোসেন ও পিনাকি ভট্টাচার্য

নেতৃত্ব ও কৌশল

সাদিক জানান,

“২৮ জুলাই কিছু নেতাকে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করানো হলেও আমরা তৎক্ষণাৎ তা প্রত্যাখ্যান করি। ৫ আগস্ট শাহবাগে দুপুর ২টায় বিক্ষোভ ডাকলে আওয়ামী লীগ আগে জায়গা দখল করতে পারে, তাই আমি সকাল ১০টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত দিই।”

তিনি আরও বলেন,

“নেতৃত্বের কাঠামো আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ভরযোগ্য রাখি, পরিচিত ছাত্রনেতাদের বাইরে রেখে অভ্যন্তরীণ কৌশলগত নেতৃত্ব গড়ে তুলি। তাতে সংগঠনের ভারসাম্য বজায় থাকে।”

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান?’ এমন প্রশ্নে সাদিক কায়েম বলেন:

“আমি চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও স্বপ্ন রক্ষিত হবে। সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা থাকবে। থাকবে আইনের শাসন ও সমান অধিকার।”

তিনি আরও বলেন:

“আমরা চাই একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি ও চিন্তাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। তরুণদের বলব—তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ইতিহাস গড়েছে। নিজের কণ্ঠকে তুচ্ছ ভেবো না।”

নেতৃত্বের বিষয়ে সাদিক বলেন,

“আমি রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখি না। নেতৃত্বকে দেখি দায়িত্ব হিসেবে। আমি সংগঠক হতে চাই, ব্যক্তি-নির্ভর নেতৃত্ব নয়, প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার।”

শেষে সাদিক কায়েম আশাবাদ জানিয়ে বলেন:

“নতুন বাংলাদেশ শুধু সম্ভাবনা নয়—এটি সময়ের দাবি। তরুণরা জেগে উঠেছে, জনগণ আর পেছনে ফিরবে না।”

an adbox will go here