ভারতে ভুয়া দূতাবাস খুলে ৩০০ কোটি রুপি জালিয়াতি, গ্রেফতার হর্ষবর্ধন জৈন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | গাজিয়াবাদে দীর্ঘ আট বছর ধরে ‘ভুয়া দূতাবাস’ পরিচালনা করে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হর্ষবর্ধন জৈন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, গাজিয়াবাদের একটি দুই তলা ভবনে ‘দূতাবাস’ চালাচ্ছিলেন তিনি, যেখানে ‘গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়েস্টার্কটিকা’ এবং ‘এইচ ই এইচভি জেইন অনারারি কনসাল’ লেখা ছিল। ভবনের সামনে উড়ছিল ভারত ও ওয়েস্টার্কটিকার পতাকা।
তদন্তে জানা গেছে, জৈনের রয়েছে একাধিক বিদেশি অ্যাকাউন্ট এবং তিনি গত ১০ বছরে ১৬২ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয়ের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযানের সময় ভুয়া কূটনৈতিক নম্বর প্লেটসহ চারটি গাড়ি এবং বিলাসবহুল ঘড়ি জব্দ করা হয়েছে।
হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতেন। পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য সামাজিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। যদিও তিনি মাত্র ছয় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেন, তবে তদন্তে উঠে এসেছে তিনি ২০১৭ সাল থেকে এই ভুয়া দূতাবাস পরিচালনা করে আসছিলেন।
এদিকে, ‘ওয়েস্টার্কটিকা’ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, হর্ষবর্ধন জৈনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের প্রতিনিধিত্ব থেকে স্থগিত করা হয়েছে এবং তারা ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে।
উল্লেখ্য, ওয়েস্টার্কটিকা একটি তথাকথিত ‘মাইক্রোনেশন’ যা মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যান্টার্কটিকার ৬ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটিকে তিনি নিজেকে ‘গ্র্যান্ড ডিউক’ হিসেবে ঘোষণা দেন, যদিও এটি কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত রাষ্ট্র নয়।
আগামীকাল সোমবার হর্ষবর্ধন জৈনকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।