জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে নেত্রকোনা ছাত্রদলের আলোচনা-সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা | দিগন্ত জার্নাল | রাজনীতি | শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা শহরের ছোট বাজারস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম মনিরুজ্জামান দুদু।
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা শামীম।
সভায় ছাত্রদল নেতারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেদিন সৈনিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদ রক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল।
সভায় বক্তারা বলেন, আজও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা আমাদের প্রেরণা দেয়— দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বাধিকার রক্ষার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোকছেদুল আলম রাজীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত বাবু, আবুল কালাম আজাদ, দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম পদমর্যাদা) প্রান্ত পাঠান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোলাম রাব্বি, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুত্তাকীবিল্লাহসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের শেখায়— দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তির দান নয়, এটি জনগণের ঐক্য ও ত্যাগের ফসল। সেই ঐক্য আজ আবার দরকার।”
তিনি আরও বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্মকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ছাত্রদলকে সেই ঐতিহ্য রক্ষা করে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন,
“ছাত্রদল শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের তরুণ বাহিনী। বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক। আজকের তরুণদের হাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব।”
তিনি ছাত্রদল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশব্যাপী আন্দোলন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। “আমরা ভয় পাই না, কারণ আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখেছি,”—যোগ করেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের চেতনা জাগ্রত করার অঙ্গীকার
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কেবল একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের গণজাগরণের প্রতীক। সেই চেতনা থেকেই আজকের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তারা মনে করেন, আজকের ছাত্ররা যদি ৭ নভেম্বরের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তবে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরতে পারবে। বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণদের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি এস এম মনিরুজ্জামান দুদু বলেন—
“ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হলে সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে।”
তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া
আলোচনা সভায় বিপুল সংখ্যক ছাত্রদল কর্মী অংশ নেন। বক্তৃতার সময় বারবার “জিয়ার সৈনিক এক হও”, “গণতন্ত্র মুক্তি পাক”–এর মতো স্লোগানে পুরো কার্যালয় মুখরিত হয়ে ওঠে।
সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ৭ নভেম্বরের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে ছাত্রদলের এমন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ঐক্য ও সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। নেত্রকোনার মতো জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক এমন আয়োজন বিএনপির আন্দোলন রাজনীতিকে আরও সংগঠিত করবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের এই আলোচনা সভা ছিল শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক চেতনা পুনর্জাগরণের এক মঞ্চ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আদর্শকে সামনে রেখে নেতারা তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার।