সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা - দিগন্ত জার্নাল

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল-সিসি বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি একটি অন্যায়, যেখানে মিশর কোনোভাবেই অংশ নেবে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের মিশর ও জর্ডানে স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনা উত্থাপন করলে কায়রোতে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এল-সিসি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি জনগণের উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুতি একটি বড় অন্যায়, যেখানে আমরা কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করতে পারি না।” মিশরের ঐতিহাসিক অবস্থান কখনো পরিবর্তন হবে না এবং দেশটি দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, জর্ডানও ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, “জর্ডান জর্ডানিয়ানদের জন্য, এবং ফিলিস্তিন ফিলিস্তিনিদের জন্য।”

এদিকে, সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। দেশটির নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আহমেদ আল-শারাকে ঘোষণা করা হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সাত সপ্তাহ আগে বিদ্রোহী অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদ্রোহী সামরিক কমান্ডার হাসান আবদুল ঘানি সিরিয়ার ২০১২ সালের সংবিধান বাতিল এবং আসাদ সরকারের সংসদ, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা জানিয়েছেন, তিনি একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা গঠন করবেন, যা দেশের শাসন পরিচালনা করবে যতক্ষণ না একটি নতুন সংবিধান অনুমোদিত হয়।

তিনি বলেন, “আসাদবিরোধী সব বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভেঙে ফেলা হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একীভূত করা হবে।” সেনা কমান্ডারদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বের সামনে রয়েছে “একটি বিশাল দায়িত্ব ও কঠিন চ্যালেঞ্জ।”

২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ সরকার গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ১.২ কোটি সিরিয়ান বাস্তুচ্যুত হন। বিদ্রোহীরা গত ৮ ডিসেম্বর মাত্র ১২ দিনের মধ্যে আসাদের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে রাজধানী দামেস্ক দখল করে। ওইদিনই আসাদ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং রাশিয়ায় পালিয়ে যান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিশরের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে পারে। অন্যদিকে, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ার নতুন সরকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর।

an adbox will go here