বিশ্ব উত্তপ্ত: ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি, গাজা যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া - দিগন্ত জার্নাল

বিশ্ব উত্তপ্ত: ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি, গাজা যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলি কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ১১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই বন্দি বিনিময় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংস্থা প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৩০ জন কিশোর রয়েছে। এটি যুদ্ধবিরতির অধীনে তৃতীয় ধাপের বন্দি বিনিময়।

বন্দিদের মধ্যে ৩২ জন আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৪৮ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করছিলেন। মুক্তির পর ২০ জনকে বিদেশে নির্বাসিত করা হবে। এর আগে দুটি বন্দি বিনিময়ে ৭ জন ইসরাইলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ২৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

আজ মুক্তি পাওয়া ইসরাইলি জিম্মিরা হলেন আরবেল ইয়েহুদ, আগাম বারগার এবং গাদি মোজেস। এছাড়াও পাঁচজন থাই নাগরিককেও মুক্তি দেওয়া হবে, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ১১০ মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে সন্ত্রাসের দায়ে দণ্ডিত জাকারিয়া জুবেদি, মাহমুদ আতাল্লাহ এবং আহমেদ বারঘৌতি রয়েছেন।

জাকারিয়া জুবেদি, যিনি দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় আল-আকসা শহিদ ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন এবং গিলবোয়া কারাগার থেকে পালিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন, তিনি মুক্তির পর পশ্চিম তীরে ফিরে যাবেন।

এদিকে, শনিবার চতুর্থ ধাপের বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে আরও তিনজন ইসরাইলি পুরুষকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল-সিসি বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি একটি অন্যায়, যেখানে মিশর কোনোভাবেই অংশ নেবে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের মিশর ও জর্ডানে স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনা উত্থাপন করলে কায়রোতে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এল-সিসি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

জর্ডানও ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, “জর্ডান জর্ডানিয়ানদের জন্য, এবং ফিলিস্তিন ফিলিস্তিনিদের জন্য।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিশরের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তবে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে পারে।

সিরিয়ায় পরিবর্তন: নতুন নেতৃত্বের অভিষেক

সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আহমেদ আল-শারাকে ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সিরিয়ার বিদ্রোহী সামরিক কমান্ডার হাসান আবদুল ঘানি ২০১২ সালের সংবিধান বাতিল এবং আসাদ সরকারের সংসদ, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা জানিয়েছেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা গঠন করা হবে, যা দেশের শাসন পরিচালনা করবে যতক্ষণ না একটি নতুন সংবিধান অনুমোদিত হয়।

তিনি বলেন, “আসাদবিরোধী সব বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভেঙে ফেলা হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একীভূত করা হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা

ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের (ডিসিএ) কাছে বুধবার রাতে মাঝ-আকাশে একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইউএস পার্ক পুলিশ, ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর একাধিক হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর চক্কর দিতে দেখা গেছে।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানে ৬০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এদিকে, মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তার অস্থির পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে গাজার যুদ্ধবিরতি, সিরিয়ার ক্ষমতা পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির মাধ্যমে গাজায় অস্থায়ী শান্তি স্থাপন সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এখনো দূরবর্তী। একইভাবে, সিরিয়ায় নতুন নেতৃত্বের যাত্রা স্থিতিশীলতা আনতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা দেশটির বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এইসব ঘটনা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

an adbox will go here