সংকোচনমুখী মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা - দিগন্ত জার্নাল

সংকোচনমুখী মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক | দিগন্ত জার্নাল

সরকারের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সংকোচনমুখী নীতি এবং চড়া সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তারা।

সোমবার ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯.৮ শতাংশ ঠিক করেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, উচ্চ সুদের কারণে ঋণের প্রবাহ কমে যাবে, ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করতে পারে।

ব্যবসায়ীদের শঙ্কা

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির ফলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সংগঠনটির মতে, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা উচ্চ সুদের কারণে ক্ষতির মুখে পড়বেন, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে দুর্বল করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োজন, তবে শুধুমাত্র নীতি সুদহার বাড়িয়ে তা সম্ভব নয়। তার মতে, “সুদহার তিন ধাপে সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যার প্রভাব পুরোপুরি বাজারে পড়েনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সুদহার সমন্বয় করা উচিত।”

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সুদহার কমালে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, কিন্তু মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। রমজান মাস সামনে থাকায় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা যৌক্তিক।”

কী করতে হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির অন্যান্য কারণগুলো শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সুদহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কৌশলী হতে হবে।

নতুন মুদ্রানীতি বিনিয়োগ ও ব্যবসায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আসন্ন কয়েক মাসের মধ্যে বোঝা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

an adbox will go here