সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়, দুর্নীতি বন্ধ করে জনগণের জন্য রাজনীতি করুন: জাতীয় নাগরিক কমিটি - দিগন্ত জার্নাল

সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়, দুর্নীতি বন্ধ করে জনগণের জন্য রাজনীতি করুন: জাতীয় নাগরিক কমিটি

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি পরিহার করে জনগণের জন্য রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের আগে কোনোভাবেই নির্বাচন হবে না।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘ভাষা আন্দোলন থেকে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিকতা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন—
✔️ জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব
✔️ যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

বিএনপি-আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা

সারোয়ার তুষার বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন—
“আপনারা দুর্নীতি আর লুটপাট ছাড়া কিছু বোঝেন না। এভাবে বাংলাদেশকে চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। আর আওয়ামী লীগ পুরো দেশকে ছিদ্র করে পালিয়ে গেছে। এজন্য আপনাদের নির্বাচনের আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয় না। কারণ আপনারা শুধু ডামি আন্দোলন করেন। অথচ জুলাই আন্দোলনে ছোট ছোট ছাত্রদের ডাকে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। কাজেই ৩৬ জুলাইকে অবহেলা করে আপনারা রাজনীতি করতে পারবেন না।”

‘সংবিধান সংস্কার কমিশন গোজামিল দিচ্ছে’

সংবিধান সংস্কার কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন—
“রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে কমিশন গোজামিল দিচ্ছে। আমরা বলছি, গোজামিল দেবেন না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হয়েছে। ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপিও সেই পরিণতির দিকে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন—
✔️ “রাজনীতি করতে হলে জনগণের জন্য করুন। প্রতিদিন চাঁদাবাজি বাদ দিন। সরকারের প্রতিটি কাজে আপনারা (বিএনপি) বাধা দিচ্ছেন— ঘোষণাপত্র করতে দিচ্ছেন না, সংবিধান বাতিল করতে দিচ্ছেন না, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করতে দিচ্ছেন না। অথচ সব দোষ চাপাচ্ছেন ছাত্রদের ওপর। নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই আপনারা ক্ষমতায় চলে গেছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— সংস্কারের আগে কোনোভাবেই নির্বাচন হবে না।”

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ১৪ জুলাইয়ের গুরুত্ব

জাতীয় নাগরিক কমিটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন—
✔️ “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মোমেন্টাম ছিল ১৪ জুলাই। কারণ সেদিন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছিলেন। এরপরই সারা দেশে শিক্ষার্থীরা ‘আমি রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন হয়েছে।”

✔️ “২০১৮ সালের নির্বাচনে শুধুমাত্র ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে একজন নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়নি। আগামীর বাংলাদেশে ছাত্ররা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।”

— দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে।

an adbox will go here