মৃত্যু সনদে সাত হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়েছে: গণশুনানিতে নাগরিগদের অভিযোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক সেবা নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে ক্ষোভ উগড়ে দেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ঘুস দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাত্তার চৌধুরী জানান, স্কুলের এক শিক্ষকের মৃত্যু সনদ নিতে তাকে সাত হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। এছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য সেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ঢাকার ১৮টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিয়ে ডিএনসিসির গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় নেতা, ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন। সেখানেই নাগরিকরা তাদের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাত্তার চৌধুরী জানান, তার এক সহকর্মীর মৃত্যু সনদ আনতে গেলে সাত হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “জন্মনিবন্ধনের ফি নির্ধারিত ৫০ থেকে ১০০ টাকা, কিন্তু বাস্তবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।” কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় কম হচ্ছে। তিনি বলেন, “একজন নাগরিকের ৩ লাখ টাকা ট্যাক্স নির্ধারিত হলেও ৫০ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এতে প্রকৃত করদাতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু সাঈদ মিয়া বলেন, “২০১৮ সাল থেকে আমরা কর দিচ্ছি, অথচ আজও পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা পাইনি। সড়কবাতি নেই, জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট, খেলার মাঠ নেই। তাহলে আমাদের দেওয়া কর কোথায় যাচ্ছে?”
গণশুনানিতে উপস্থিত ডিএনসিসির কর্মকর্তারা নাগরিকদের এসব অভিযোগ শোনেন এবং সেবার মানোন্নয়নের আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে এসব সমস্যা কবে সমাধান হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।