উত্তরাঞ্চলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় গুম কমিশন - দিগন্ত জার্নাল

উত্তরাঞ্চলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় গুম কমিশন

দিগন্ত জার্নল ডেস্ক :

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, নির্দিষ্ট একটি চক্র সাদা পোশাকে এসে মানুষজনকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। অনেকে ফিরে এলেও তাদের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ নিখোঁজ থেকে গেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু সদস্য এতে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কোনো ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে না আসায় ভুক্তভোগীদের পরিবারও মুখ খুলতে ভয় পান। যারা ফিরে এসেছেন, তারা জানিয়েছেন, বন্দিদশায় তাদের ওপর অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে যেত।

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। সংগঠনগুলোর দাবি, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। অনেকে আবার ভয়ে মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তার ভাইকে রাতের আঁধারে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়। কয়েক মাস ধরে তার কোনো সন্ধান নেই। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও তারা কোনো তথ্য পাননি।

এ বিষয়ে গুম তদন্ত কমিশনের এক সদস্য জানান, তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করছি এবং দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের সাথে কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই বেআইনি কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। কেউ যদি এমন কিছু করে থাকে, তবে তদন্তের মাধ্যমে তা বের হয়ে আসবে।”

এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। গুম তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, যেসব ঘটনায় সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সে জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীদের পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে বিষয়েও জোর দাবি উঠেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশাবাদী যে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

an adbox will go here