নতুন ইতিহাস গড়লেন মেনসিক, হার মানলেও অজুহাত দেননি জোকোভিচ - দিগন্ত জার্নাল

নতুন ইতিহাস গড়লেন মেনসিক, হার মানলেও অজুহাত দেননি জোকোভিচ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
হাঁটুর বয়সী এক তরুণের কাছে হেরে গেলেন নোভাক জোকোভিচ, কিন্তু চোখের সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি এই সার্বিয়ান মহাতারকা। মায়ামিতে এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ১৯ বছর বয়সী ইয়াকুব মেনসিকের কাছে ৭–৬ (৭–৪), ৭–৬ (৭–৪) গেমে পরাজিত হলেও প্রতিপক্ষের জয়কে পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন জোকোভিচ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে চোখের সংক্রমণের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, “আমার জন্য এটা দুর্ভাগ্যের। দুটি টাইব্রেকার, বৃষ্টির কারণে ছয় ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া—অদ্ভুত এক ম্যাচ, অদ্ভুত এক দিন। আমি সেরা ছন্দে ছিলাম না, কিন্তু যা হয়েছে তো হয়েছেই। তার জয়টাকে ছোট করার কিছু নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “সত্যি আমি এসব (চোখের সমস্যা) নিয়ে কথা বলতে চাই না। কিছু বিষয় ছিল, কিন্তু তা বলতে চাই না…শুধু তাকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি এমন কিছু বলতে চাই না, যেটাকে অজুহাত মনে হয়।” ফাইনাল জিতলে এটিপি শিরোপার সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারতেন জোকোভিচ। রজার ফেদেরার (১০৩) ও জিমি কোনর্সের (১০৯) পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ শিরোপার মাইলফলকে পৌঁছানোর সুযোগ ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভাঙলেও প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করেননি তিনি। তাঁর কথায়, “হারতে কখনোই ভালো লাগে না; কিন্তু সত্যি বলতে অল্প যে কয়েকজন খেলোয়াড়ের কাছে হেরেও ভালো লাগতে পারে, তাদের মধ্যে সে একজন।” মেনসিকের সঙ্গে নিজের পুরনো স্মৃতির কথা তুলে ধরে জোকোভিচ বলেন, “তার যখন ১৫ বা ১৬ বছর বয়স, তখন থেকে তাকে খেলতে দেখছি। একবার তাকে আমি আমন্ত্রণও জানিয়েছিলাম, আমরা একসঙ্গে অনুশীলন করেছিলাম।” এটি ছিল এটিপি মাস্টার্সের ফাইনালে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় বয়সের পার্থক্যের ম্যাচ। ১৮ বছরের ব্যবধানের এই লড়াইয়ের আগে ১৯৭৬ সালে কেন রোজওয়াল (৪১) ও রাউল রামিরেজের (২২) এর মধ্যে বয়সের পার্থক্য ছিল ১৯ বছর। মেনসিকের জন্য এ জয় ছিল স্বপ্নের মতো। জোকোভিচের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলায় আপনাকে দেখেই টেনিস খেলা শুরু করেছি। কোনো টেনিস খেলোয়াড়ের জন্য একটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে আপনাকে হারানোর মতো কঠিন কাজ আর নেই।” এই জয়ের মাধ্যমে তিনি মায়ামি ওপেনের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০২২ সালে কার্লোস আলকারেজ ১৮ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, প্রথম রাউন্ডে নাম প্রত্যাহার করে নিতে চেয়েছিলেন মেনসিক! হাঁটুর ব্যথার কারণে খেলার এক ঘণ্টা আগে টুর্নামেন্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের কাগজ হাতে নিয়েই বসেছিলেন তিনি। তবে রেফারি লাঞ্চে চলে যাওয়ায় তা জমা দিতে পারেননি। সেই সময় ফিজিওর চিকিৎসায় ব্যথা কমে গেলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন মেনসিক। এরপর যা হয়েছে, তা ইতিহাস! একসময় টুর্নামেন্ট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা এক তরুণই আজ এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

an adbox will go here