বাংলাদেশে উগ্রপন্থার উত্থান নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ঢাকা, ২ এপ্রিল ২০২৫: গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গেল আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থানের আলামত তুলে ধরেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ইসলামি চরমপন্থীরা ধীরে ধীরে দৃশ্যপটে আসতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ফুটবলে বাধা দেওয়া, নারীদের হেনস্তা করা, ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা ধর্মীয় চরমপন্থীরা এখন প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নতুন সংবিধানে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় বাদ দেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়েছে, সামরিক বাহিনী পুলিশিংয়ের কিছু দায়িত্ব নিলেও তাদের মধ্যেও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে মৌলবাদের একটি নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। ফলে নারীদের স্বাধীনতা সংকুচিত করার চেষ্টা হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু ইসলামি দল এখন নতুন সুযোগের অপেক্ষায় আছে, এবং তারা বাংলাদেশকে ‘ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করছে। স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদের কিছু নেতা নিজেদের মতো করে ধর্মীয় বিধিবিধান চাপিয়ে দিচ্ছেন, যা নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে কোন পথে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।