মার্চে বাংলাদেশ রিউমার স্ক্যানার শনাক্ত করেছে ২৯৮টি ভুল তথ্য - দিগন্ত জার্নাল

মার্চে বাংলাদেশ রিউমার স্ক্যানার শনাক্ত করেছে ২৯৮টি ভুল তথ্য

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে, যা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় বেড়েছে। এসব ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। গত মাসে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং ধর্ষণ বিষয়ক তথ্যের উপর ভিত্তি করে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণসংক্রান্ত খবর ও ঘটনার ভুল তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, যা জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

ধর্ষণ বিষয়ক ভুল তথ্য

মার্চ মাসে ধর্ষণের সংখ্যা নিয়ে প্রচারিত ভুল তথ্যের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। এর ফলে ধর্ষণ সম্পর্কিত তথ্য, ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রিউমর স্ক্যানার গত মাসে ধর্ষণ সম্পর্কিত অন্তত ২৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে মাগুরায় একটি ৮ বছর বয়সী শিশুর ধর্ষণের ঘটনায় ৮টি ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে।

রাজনৈতিক ভুল তথ্যের বিস্তার

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যার সংখ্যা ছিল ১০৫টি, যা মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ। রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে (৭টি) জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই দলটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে নিয়েও ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ৩৩টি ভুল তথ্য প্রচার হয়েছে, যার ৮৫ শতাংশই তাঁর পক্ষে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ভুল তথ্য

মার্চ মাসে ভুল তথ্যের প্রভাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমের উপরও ছিল ব্যাপক। ফেসবুকে ২৭৩টি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, এক্সে ৬২টি, টিকটকে ৭টি, ইউটিউবে ৪৪টি, ইন্সটাগ্রামে ২৬টি, এবং থ্রেডসে অন্তত ৫টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। গণমাধ্যমেও ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে—এমন ১৬টি ঘটনা শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। উল্লেখযোগ্য যে, যমুনা টিভি, জনকণ্ঠ এবং আমার দেশ পত্রিকা, এসব গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে ৪৫টি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

ভারতীয় অপতথ্য এবং সাম্প্রদায়িক ভুল তথ্য

গত মার্চে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪টি ভারতীয় গণমাধ্যমে এবং ৩টি ভারতীয় অ্যাকাউন্ট/পেজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের ক্ষেত্রে ২৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে প্রচারিত হয়েছিল।

সরকারের উপর প্রচারিত ভুল তথ্য

এ মাসে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কিত ১৫টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই সরকারের বিরুদ্ধে ছিল। বিশেষ করে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে ২২টি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে, যেগুলোর ৭৭ শতাংশই তার বিপক্ষে ছিল। সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ছিল বেশিরভাগ।

মৃত্যুর গুজব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ভুল কনটেন্ট

মার্চ মাসে ১৭টি মৃত্যুর গুজব এবং ৯টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, পাঁচটি ডিপফেক ভিডিওও শনাক্ত হয়েছে, যা কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।

রমজান এবং ঈদ সম্পর্কিত ভুল তথ্য

রমজান মাস এবং ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ১৬টি ও ৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। এসব ভুল তথ্য ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

ভুল তথ্যের মোকাবিলায় রিউমর স্ক্যানারের ভূমিকা

রিউমর স্ক্যানার এমন ভুল তথ্য শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ধরনের অপতথ্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং রাজনৈতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে চেষ্টা করছে। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভবিষ্যতে তারা এসব ভুল তথ্যের মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

এই পরিসংখ্যানগুলো একটি ইঙ্গিত দেয় যে, সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমের জন্য আরও কার্যকর ফ্যাক্ট চেকিং প্রয়োজন, যাতে জনগণ ভুল তথ্য থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

an adbox will go here