ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ছোট্ট আরাধ্যা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
চট্টগ্রাম, ৩ এপ্রিল ২০২৫: মাত্র ৭ বছর বয়সী আরাধ্যা বিশ্বাস এখনো জানে না, তার মা-বাবা আর নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট্ট এই মেয়েটি বারবার মা-বাবাকে খুঁজছে। অথচ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা দু’জনই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
বুধবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। ওই মাইক্রোবাসেই ছিল আরাধ্যা ও তার পরিবার। কক্সবাজারে ঈদের ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল তারা। কিন্তু মাঝপথেই থমকে যায় তাদের স্বপ্নের সফর।
মাইক্রোবাসের সহকারী চালক আল-আমিন জানান, দুর্ঘটনায় আরাধ্যার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে সে। চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সার্জারি বিভাগে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয় শিশুটি।
এই দুর্ঘটনায় একমাত্র সন্তানকে অনাথ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছেন দিলীপ বিশ্বাস (৪২) ও তার স্ত্রী সাধনা রানী। দুর্ঘটনায় আহত আরও তিনজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একটি ছোট্ট শিশু, যার জীবনে ছিল আনন্দের স্বপ্ন, পরিবারকে ঘিরে ভালোবাসার পৃথিবী—হঠাৎই সে হারিয়ে ফেলেছে সবকিছু। এখনো সে জানে না, তার আপনজনেরা আর ফিরে আসবে না। আরাধ্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তার জন্য এখন প্রয়োজন সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও ভালোবাসার স্পর্শ।