হাসিনাকে ফেরত চায় বাংলাদেশ, মোদির সঙ্গে ইউনূসের প্রথম বৈঠক - দিগন্ত জার্নাল

হাসিনাকে ফেরত চায় বাংলাদেশ, মোদির সঙ্গে ইউনূসের প্রথম বৈঠক

দিগান্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | অনেক আলোচনার পর অবশেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংরিলা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়। এছাড়াও, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য, সীমান্ত হত্যা, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন, তিস্তা চুক্তি চূড়ান্তকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আলোচনা হয়েছে।

ড. ইউনূস ভারতের আতিথেয়তার অপব্যবহার না করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরুৎসাহিত করতে ভারতের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়কালে নিরাপত্তা বাহিনী ও আ’লীগের সশস্ত্র কর্মীদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও তিনি সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে পরিবারের গভীর বেদনা থাকে, যা দুই দেশের সম্পর্ককেও আঘাত করে।

মোদি জানান, সীমান্তরক্ষীদের গুলি আত্মরক্ষার জন্যই হয় এবং এসব ঘটনা ভারতের অভ্যন্তরে ঘটে। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে মোদির উদ্বেগের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ সংক্রান্ত অনেক প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত বা ভুয়া, এবং সেসব যাচাইয়ের জন্য ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। তিনি জানান, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা নজরদারির আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বৈঠকে ড. ইউনূস বিমসটেকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের সমর্থন কামনা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রমুখ।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ বৈঠক ছিল, যেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আলোচনায় এসেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের জানান, মোদি-ইউনূস বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ একটি চিঠিও দিয়েছে।

ভারত সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত।

এদিকে, ড. ইউনূস মোদিকে উপহার হিসেবে ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে তাকে স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানের একটি স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলে দেন।

an adbox will go here