অযত্ন-অবহেলায় পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি, কবিভক্তদের প্রত্যাশা সরকারি উদ্যোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ || বাংলা সাহিত্যের পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকাপুর গ্রামে অবস্থিত কবির বাড়ি বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। যেখানে ‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়’ কিংবা ‘এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে’—এসব চিরকালীন কবিতার রচয়িতা শায়িত, সেই বাড়ির আঙিনা এখন ময়লা-আবর্জনায় ভরা, স্মৃতিচিহ্নে ধুলোর স্তর। কবিভক্তরা দূরদূরান্ত থেকে এসেও ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে। সরকারি উদ্যোগে বাড়ির পাশে একটি জাদুঘর থাকলেও তাতে কবির ব্যবহার্য স্মৃতিচিহ্নের সঠিক সংরক্ষণ নেই, প্রচার নেই, দর্শনার্থীরাও কমে গেছে। প্রতিবছর জানুয়ারিতে কবির জন্মদিনে আয়োজিত মেলা করোনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েক বছর ধরে বন্ধ। গত বছর কবিপুত্র ড. জামাল আনোয়ার মারা যাওয়ায় বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণও শিথিল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কবির স্মৃতিবাহী ঘরগুলোতে মাকড়সার জাল, ধুলাবালি আর অযত্নের ছাপ স্পষ্ট।
ফরিদপুর শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জসীম উদ্যানেও একই অবস্থা। এ বছর মেলা না হওয়ায় মাঠে শুকানো হচ্ছে কৃষিপণ্য, জসীম উদ্যানের দুটি ঘাটলার রেলিং চুরি হয়ে গেছে, আশপাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। স্থানীয় কবিপরিবার, সাহিত্যিক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকার এবং জেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কবির বাড়ি ও স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা এবং এলাকাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা।
কবিপুত্রের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালানোই কঠিন, বাড়ি ও স্মৃতিচিহ্নের দেখাশোনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা জানান, আগামী বছর কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং কবির স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় কাজ চলবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা এই মহান কবির স্মৃতি যেন যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত হয়, এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।