আন্ডারওয়ার্ল্ডে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৫, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র - দিগন্ত জার্নাল

আন্ডারওয়ার্ল্ডে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৫, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫ || খুলনার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণকারী চারটি বড় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করতে একাধিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এসব অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে নুর আজিম, পলাশ বাহিনী ও গ্রেনেড বাবুর শীর্ষ সদস্যসহ অন্তত ৪৫ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ৩০টিরও বেশি অস্ত্র, যার মধ্যে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি শটগানও রয়েছে। অপরাধীদের এই ধরপাকড়ের ফলে খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় অংশ এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

কেএমপি সূত্র জানায়, খুলনার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চারটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ছিল—নুর আজিম গ্রুপ, পলাশ বাহিনী, গ্রেনেড বাবু এবং আশিক বাহিনী। চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে একের পর এক অন্তত ১০টি বড় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেনেড বাবুর বাবাসহ একাধিক সহযোগী, পলাশ বাহিনীর প্রধান ও সহযোগীরা এবং ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে মাদক ও সন্ত্রাসের গডফাদার নুর আজিমকে।

গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান:
গত শুক্রবার রাতে সেনা, নৌবাহিনী ও কেএমপির যৌথ অভিযানে গ্রেনেড বাবুর বাড়ি থেকে একাধিক অস্ত্র ও বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হন তার বাবা মিন্টু চৌধুরী, ছোট ভাই রাব্বি, ম্যানেজার সৌরভ ও সুষমা রানী সাহা। অভিযানে উদ্ধার হয় একটি ৯ এমএম পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, ১২ লাখ টাকা এবং আরও ২৬ লাখ টাকা ও ৪২৪০ ভারতীয় রুপি।

পলাশ বাহিনীর সাথে গোলাগুলি:
ঈদের আগের দিন সোনাডাঙ্গা থানার আরামবাগ এলাকায় প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির পর পলাশসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তিনটি পিস্তল, একটি শটগান, ২৩ রাউন্ড শটগানের গুলি, ধারালো অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। পলাশের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক হত্যা মামলা এবং সে শহরে মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। অভিযানে নৌবাহিনীর দু’জন সদস্য আহত হন।

ঢাকায় গ্রেফতার নুর আজিম:
৩১ মার্চ রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নুর আজিম এবং তার চার সহযোগীকে। তারা খুলনার মাদক ব্যবসার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকের বহু মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, খুলনার অর্ধেক মাদক সিন্ডিকেট ছিল নুর আজিমের দখলে।

অস্ত্র সরবরাহকারীও গ্রেফতার:
হরিণটানা থানার বাঙ্গালবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় অস্ত্র সরবরাহকারী ফারুক ও খাইরুল হোসেনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিদেশি পিস্তল, পুলিশের লুণ্ঠিত শটগান, রাউন্ড কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্র।

ধরাছোঁয়ার বাইরে আশিক বাহিনী:
সদর থানাধীন চানমারী এলাকার আশিক নামে এক ব্যক্তি নিজ নামে দল গঠন করে অপরাধ জগতে সক্রিয়। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা এবং তার দলের ২৩ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১০টি মামলা। বর্তমানে আশিক পলাতক।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, “সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আশিক ও গ্রেনেড বাবুকেও শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।”

সম্প্রতি এই ধারাবাহিক অভিযানে খুলনার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

an adbox will go here