৭ এপ্রিল—গাজার জন্য হরতাল, মানবতার জন্য একাত্মতা - দিগন্ত জার্নাল

৭ এপ্রিল—গাজার জন্য হরতাল, মানবতার জন্য একাত্মতা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

৭ এপ্রিল ২০২৫, সোমবার—এই দিনটি যেন আর কোনো সাধারণ দিন নয়। এটি যেন এক রক্তস্নাত ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বিবেকের প্রতিধ্বনি তোলার দিন। গাজ্জা—এটি শুধু একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; এটি এক নিষ্পাপ জাতির রক্তমাখা প্রতিচ্ছবি, যেখানে শিশুরা আর কাঁদে না—কারণ তাদের কণ্ঠস্বর ঢেকে গেছে বোমার গর্জনে। যেখানে প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ সাক্ষ্য দেয় মানবতার ব্যর্থতার।

এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাপী ঘোষিত হরতালের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে—স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য—সব কিছু এক দিনের জন্য বন্ধ রেখে দাঁড়ান সেই মানুষের পাশে, যারা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে আপনজন, হারাচ্ছে বেঁচে থাকার অধিকার।

হরতাল মানে শুধু রাস্তা অবরোধ নয়। এটি সেই চেতনার নাম, যা নিপীড়িতদের আর্তনাদে সাড়া দেয়। এই হরতাল রাজনৈতিক কোনো মতাদর্শ নয়, এটি নৈতিক দায়িত্বের প্রকাশ। এটি সেই প্রতিবাদ—যা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে, যখন অবিচার দেখেও চোখ বন্ধ রাখা যায় না।

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়—”তোমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরস্পরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে পরস্পরের সহযোগী হয়ো না।” (সূরা আল-মায়েদা ৫:২) রাসূল (সাঃ) বলেন, “তোমরা যদি কোনো জুলুম দেখ, তবে তা হাত দিয়ে প্রতিহত করো, তা না পারলে জবান দিয়ে প্রতিবাদ করো, তাও না পারলে অন্তত হৃদয়ে ঘৃণা করো—আর এটি হলো সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।” (সহিহ মুসলিম)

তাই এই প্রতিবাদ শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি ঈমানের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

এই মুহূর্তে যারা নিঃশ্বাস নিচ্ছে শেষ বারের মতো, যারা খোলা আকাশের নিচে একমুঠো নিরাপত্তার আশায় তাকিয়ে আছে, তারা একদিন প্রশ্ন করবে—”তোমরা কী করেছিলে?” আমরা যেন বলতে পারি, “আমরা চুপ ছিলাম না। আমরা ন্যায়ের পাশে ছিলাম।”

এই হরতাল সেই অবস্থান প্রকাশের দিন। আসুন, আমরা সবাই মিলে মানবতার পক্ষে, গাজ্জার মানুষের জন্য, এই দিনটি উৎসর্গ করি।

✍️ মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল

an adbox will go here