গাজা সংকটে ড. ইউনূসকে ঘিরে ছড়ানো গুজব: রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে সত্য উন্মোচিত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ || ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনে নেমে আসে মৃত্যু আর ধ্বংসযজ্ঞের বিভীষিকা। চলমান এই সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুয়া দাবি ও গুজব ছড়িয়েছে, যার অন্যতম টার্গেট হয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এসব গুজবকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন সংকট শুরু হওয়ার পরপরই ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে যে, ড. ইউনূস নাকি ইসরাইলকে ১০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ দাবির সূত্র একটি অনলাইন পোর্টাল ‘বাংলা ইনসাইডার’-এর (বর্তমানে বন্ধ) ১৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে খোদ সেই মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে এমন কোনো তথ্য নেই এবং মন্ত্রণালয়ও রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, তারা এমন কিছু বলেনি। এ ছাড়াও ইসরাইলি সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকাররাও এমন কোনো সহায়তার খবর জানেন না। ইউনূস সেন্টারও দাবি করে, এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আরও একটি ভুয়া তথ্য ছড়ায় যে, “ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ায় নেতানিয়াহু ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন”—এমন একটি শিরোনামে যমুনা টেলিভিশনের লোগোসহ একটি ভুয়া ফটোকার্ড ঘুরতে থাকে অনলাইনে। যদিও যমুনা টেলিভিশন এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি এবং সেটি ডিজিটালি সম্পাদিত একটি ভুয়া কার্ড বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর দুদকে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ড. ইউনূসের দেওয়া এক বক্তব্যের ফটোকার্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদনা করে ‘ইসরাইল আত্মরক্ষার অধিকার রাখে’—এমন মন্তব্য তাঁর নামে চালানো হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বক্তব্য হুবহু এই ভাষায় ছিল, যা বিভ্রান্তিমূলকভাবে ড. ইউনূসের মুখে বসিয়ে প্রচার করা হয়।
ছবির মাধ্যমেও গুজব ছড়ানো হয়েছে। একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, ড. ইউনূস নাকি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে করমর্দন করছেন। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি একটি সম্পাদিত ছবি, যার মূল ছবি ছিল ড. ইউনূসের সঙ্গে পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ। অন্য আরেকটি ভুয়া ছবিতেও একই ধরনের কারসাজি পাওয়া গেছে, যেখানে দুই ভিন্ন ছবিকে একত্র করে বানানো হয়েছে এমন দৃশ্য।
এই গুজবগুলো শুধু পোস্টের মাধ্যমেই নয়, ইনবক্স বার্তা, মন্তব্যে ছবি এবং শেয়ার অপশন দিয়ে এক ব্যক্তি থেকে আরেক জনে ছড়িয়ে পড়ছে। দুঃখজনকভাবে, ফ্যাক্টচেক হওয়ার পরও এসব মিথ্যা তথ্য বেশিরভাগ মানুষের কাছে না পৌঁছানোয় সেগুলো বারবার ঘুরেফিরে ছড়াচ্ছে।
পরিশেষে, রিউমর স্ক্যানার সতর্ক করে বলছে—এই ধরনের গুজবের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্য যাচাই না করে কিছু শেয়ার না করাই সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।