ঢালাওভাবে বরখাস্ত অব্যাহত থাকলে বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সামান্য অপরাধে ঢালাওভাবে সাময়িক বরখাস্ত শুরু করা হয়েছে। তারা জানান, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে চাকরিবিধি অনুসরণ করে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস বিনির্মাণে করণীয়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই বক্তব্য রাখা হয়। এ সভাটি ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের বাইরে বিভিন্ন পেশা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা থেকে বিরত থাকতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, সামান্য অপরাধে ঢালাওভাবে বরখাস্ত করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অপব্যবহার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা বলেন, সিভিল সার্ভিসে একটি ক্যাডারের অধিপত্য ও প্রভাব রয়েছে। এর কারণে দেশের জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, সিঙ্গাপুর ও ভারতের সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে।
এছাড়াও, বক্তারা সিভিল সার্ভিসের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করতে পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। সব মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা দরকার, বলেও মন্তব্য করেন তারা। বক্তারা বলেন, প্রশাসনের সকল স্তরে অনিয়ম, কোটাবৈষম্য, অসমতা দূর করার মাধ্যমে একটি গতিশীল জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
পরিষদের সদস্যরা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষে থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাই বড় কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিসের রূপরেখা বিষয়ে মতবিনিময় সভা আয়োজিত হবে।
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন, ফারহানা আক্তার, ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান এবং ২৫ ক্যাডারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।