বোট ক্লাবে জো’রপূ’র্বক প্রেসিডেন্ট হয় বেনজীর, আত্মসাৎ করে ৩২ কোটি টাকা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ || ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অন্যতম সহযোগী, ঢাকা বোট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে জো’রপূ’র্বক ক্ষমতা দখল, আর্থিক অনিয়ম ও সদস্যপদ বাণিজ্যের অভিযোগে ক্লাব থেকে ব’হি’ষ্কা’র করা হয়েছে। ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসির মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। অভিযোগ রয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং ক্লাবের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সদস্যপদ ও পদায়ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্লাবের রিভারভিউ লাউঞ্জে ‘বিগত ক্লাব সভাপতি বেনজীর আহমেদের আর্থিক অনিয়ম’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসির মাহমুদ। তিনি বলেন, ক্লাবের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অনিয়ম আরও তদন্তের জন্য স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্ম ‘হুদাবাসি’-কে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নাসির মাহমুদ বলেন, “আমি ক্লাবের নির্বাচিত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বেনজীর আহমেদ আমাকে তিন বছর ক্লাবে ঢুকতে দেননি। আমাকে গু’ম করার হু’ম’কি দেওয়া হতো, আয়নাঘরে নেওয়া হতো। আমি ভয় পেতাম, কিন্তু হাল ছাড়িনি। আইনি লড়াই করেছি, তিনবার তাকে লি’গ্যা’ল নোটিশ দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “বেনজীর ক্লাবের সভাপতি হয়ে সামাজিক সম্মান অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছিলেন সেটিও পরে বাতিল হয়েছে। তিনি সেই ডিগ্রিও কি’নে’নিয়েছিলেন সম্মানের আশায়।”
পরীমনি-কাণ্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে নাসির মাহমুদ জানান, “পরীমনি বোট ক্লাবের সদস্য ছিলেন না, কারও গেস্ট হয়ে এসেছিলেন, কোনো অনুমতি ছাড়াই। আমি এই অ’নু’ম’তি ছাড়া প্রবেশের বি’রো’ধিতা করায় আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
তিনি জানান, ক্লাবটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট দাখিল করতে হয়, কিন্তু বেনজীর এসব কোনো নিয়মই মানেননি। তার সময়ে ক্লাব কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বর্তমান কমিটি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দাখিল করে।
সাবেক ক্লাব প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক সেক্রেটারি লে. কমান্ডার (অব.) তাহসিন আমিনের সদস্যপদ গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নকিব সরকার অপু, মো. জেসমুল হুদা মেহেদী অপু, আসমা আজিজ, এ কে এম আইয়াজ আলী (খোকন), আলীম আল কাজী (তুহিন), খালেদা আক্তার জাহান, মির্জা অনিক ইসলাম, আজাদ এম এ রহমান, মো. জাকির হোসাইন, খন্দকার হাসান কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।