“না ভারত, না বাংলাদেশ—মুসলমানের একই দেশ” শ্লোগানে জাসাকের ‘সংমার্চ’ ২৪ এপ্রিল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫:
“না ভারত, না বাংলাদেশ—মুসলমানের একই দেশ, না ঢাকা না দিল্লি ভাই—সব মুমিনের এক লড়াই”—এমন বজ্রকণ্ঠ শ্লোগানে মুখরিত হতে চলেছে রাজধানীর পল্টন এলাকা। ভারতীয় মুসলমানদের উপর চলমান নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল আয়োজন করেছে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদী কর্মসূচি—‘সংমার্চ’। ঐদিন বেলা ২টায় পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে শুরু হবে এই প্রতিবাদী সংগীতযাত্রা যার গন্তব্যস্থল হবে ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত ।
‘সংমার্চ’-এর কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হচ্ছে এর থিমসং, যা সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরেছে ভারতীয় মুসলমানদের দুঃসহ বাস্তবতা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়। “আর কতকাল মুসলমানের ভাঙবে ঘর, আর কতকাল ঝরবে খু’ন”—এই পঙ্ক্তি শুধু সংগীত নয়, একটি প্রতিশ্রুতি, প্রতিবাদের ভাষা এবং ন্যায়ের দাবি।
জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি সময়ের আলোকিত জ্ঞানী জাগ্রত কবি মুহিব খান বলেন,
“ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। ‘সংমার্চ’ কেবল একটি কর্মসূচি নয়—এটি একটি আন্দোলন, একাত্মতার ঘোষণা, এবং মানবতার পুনর্জাগরণ।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের ইতিহাসে মুসলমানদের গৌরবময় ভূমিকা ছিল, আজ সেই মুসলমানরাই নিগৃহীত। আমরা চাই সব নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা। আমাদের গান, কবিতা আর প্রতিবাদ এই বার্তাই দেবে বিশ্ববাসীকে।”
সামপ্রদায়িকতা বিরোধী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল নাগরিককে আহ্বান জানানো হয়েছে।
“হোক ভারতের সব নাগরিক এক সমান—ধর্মে কর্মে অধিকার পাক সবাই”—এই বার্তার মাধ্যমে ‘সংমার্চ’ শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বিকল্প মানবিক বিশ্বগঠনের দৃপ্ত অঙ্গীকারও বটে।
এবারের ‘সংমার্চ’-এ অংশ নিতে রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে দলে দলে মানুষ আসবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। সংগীত, কবিতা, আবৃত্তি ও প্রতিবাদী নাট্যাংশ দিয়ে সাজানো এই কর্মসূচি হতে যাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব।