সংস্কার প্রশ্নে অধিকাংশ সুপারিশে বিএনপির সম্মতি, কিছু মৌলিক বিষয়ে মতানৈক্য - দিগন্ত জার্নাল

সংস্কার প্রশ্নে অধিকাংশ সুপারিশে বিএনপির সম্মতি, কিছু মৌলিক বিষয়ে মতানৈক্য

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ৬৯৪টি সুপারিশের মধ্যে ৫০০টির বেশি সুপারিশে একমত হয়েছে দলটি। যদিও কিছু মৌলিক বিষয়ে দলটি আপত্তি জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই আংশিক ঐক্যমত্যও ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, ১০০ নারী আসন সংরক্ষণ, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার, নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ন্যায়পাল নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য সংখ্যা ১৪ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার মতো বেশিরভাগ প্রস্তাবেই বিএনপি একমত হয়েছে।

তবে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ আইন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন, গণভোট, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন, রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন, নারী আসনে সরাসরি ভোট, সংসদীয় মেয়াদ ৪ বছর করা, এবং একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধ করার মতো কিছু মৌলিক প্রস্তাবে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষক ও সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, “পুরোপুরি ঐক্য না হলেও বিএনপি অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে, এটা ইতিবাচক। মৌলিক কিছু বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে, সেগুলো অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে।”

ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিএনপি সংস্কারের পক্ষে রয়েছে, এটা প্রমাণিত হয়েছে। তারা যদি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসে, তাহলে এসব সংস্কার বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।”

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, “বিএনপির নিজস্ব ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা রয়েছে, যেটি তারা মাঠপর্যায়ে নিয়ে কাজ করেছে। সুতরাং ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে নিজেদের এজেন্ডাও বিবেচনায় রাখবেই। বিরোধ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এটি অগ্রগতির পথে বাধা নয়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক পক্ষই কিছু ছাড় দেবে—এই মানসিকতা থাকলে রাজনৈতিক সংস্কারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যের পথে দেশ এগোচ্ছে, যার পরিণতিতে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে।

an adbox will go here