স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না জামায়াত: ডা. তাহের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক
শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না, পরোয়া করে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ অনেকে।
ডা. তাহের বলেন, একটি টেকসই, গ্রহণযোগ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াত কাজ করছে। দেশের স্বার্থে নৈতিকতাভিত্তিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং দেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তনে জামায়াতে ইসলামী সম্মত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেয় না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় অভ্যন্তরেও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে কোনো ক্যাম্পেইন, প্রার্থী বা প্যানেল থাকে না, যা একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়ে ডা. তাহের বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো প্রহসনের পুনরাবৃত্তি জাতি আর দেখতে চায় না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা হয়েছে, যার ফলভোগ করছে সমগ্র জাতি।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া, পরিশ্রম ছাড়া আয়, এবং উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা ভোগ করাই বড় দুর্নীতি। তিনি আরও বলেন, শত শত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও যাতায়াত উন্নয়নে ব্যবহার হলে বাংলাদেশের বর্তমান চেহারা ভিন্ন হতো।
তিনি বলেন, নৈতিকতাভিত্তিক উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার মধ্য দিয়েই আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। কনস্ট্রাকটিভ, পজিটিভ ও বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের জন্য জামায়াত পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা, যেমন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাইফুল আলম খান মিলনসহ কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।