ভারত ট্রানজিট সুবিধা স্থগিতের পর সিলেট থেকে প্রথম কার্গো ফ্লাইট রোববার - দিগন্ত জার্নাল

ভারত ট্রানজিট সুবিধা স্থগিতের পর সিলেট থেকে প্রথম কার্গো ফ্লাইট রোববার

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || ভারত বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা স্থগিত করে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রোববার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শনিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবির ভূঁইয়া জানান, সিলেট থেকে প্রথম মালবাহী বিমান চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে ঢাকার পর দেশের দ্বিতীয় কার্গো পরিচালনাকারী বিমানবন্দর।

গ্যালিস্টেয়ার এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি চার্টার্ড এয়ারবাস এ-৩৩০-৩০০ মালবাহী বিমান রোববার সন্ধ্যায় স্পেনের উদ্দেশে ৬০ টন তৈরি পোশাক পণ্য নিয়ে রওনা দেবে। ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ফ্লাইটের কার্গো চেক-ইন, নিরাপত্তা মোতায়েনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান।

কার্গো ফ্লাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার আগে বেবিচক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান হবে এবং মালবাহী বিমানের সম্মানে জল কামান স্যালুট প্রদান করা হবে।

মঞ্জুর কবির ভূঁইয়া জানান, সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজকে নিজস্ব পণ্য রপ্তানির জন্য উৎসাহিত করতে তাদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি জানান, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও শিগগিরই কার্গো ফ্লাইট চালু হবে, যা হবে দেশের তৃতীয় কার্গো সুবিধাপ্রাপ্ত বিমানবন্দর।

বিমান বাংলাদেশের কার্গো পরিচালক শাকিল মিরাজ জানান, সিলেটের জন্য ঢাকা থেকে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সরিয়ে আনা হয়েছে এবং ফ্লাইট পরিচালনায় সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কার্গো সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে চার্জ হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কার্গো সংক্রান্ত চার্জ সহজীকরণ এবং কমানোর জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। শিগগিরই কম টারিফ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) কার্গো টার্মিনালে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবগুলোর ওপর নির্ভরতা কমবে।

তৃতীয় টার্মিনালের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো সক্ষমতা বছরে ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টনে উন্নীত হবে। এখানে ৩৬,০০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি বিশেষ কার্গো জোন থাকবে। নতুন টার্মিনালের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও বিস্তৃত সংরক্ষণ সুবিধা স্বাধীন এবং দক্ষ কার্গো পরিচালনা নিশ্চিত করবে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, এ মাসের শুরুতে ভারত বাংলাদেশি পণ্যের, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের ওপর বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিটের চার বছরের চুক্তি বাতিল করে, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময় কার্যকর হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতীয় রুট ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত পণ্য রপ্তানি করতে পারতেন। বাংলাদেশ ফ্রেট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সাপ্তাহিক প্রায় ৬০০ টন বা ১৮ শতাংশ তৈরি পোশাক রপ্তানি ভারতীয় রুটে পরিচালিত হতো।

বর্তমানে বাংলাদেশ সাপ্তাহিক প্রায় ৩,৪০০ টন পোশাক বিমানে রপ্তানি করে, যেখানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দৈনিক ৩০০ টন ধারণক্ষমতার হলেও পিক সিজনে ১,২০০ টন পর্যন্ত পরিচালনা করে। বর্তমানে এমিরেটস, ক্যাথে প্যাসিফিক, কাতার এয়ারওয়েজ, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো বড় এয়ারলাইন্সগুলো কেবলমাত্র এইচএসআইএ থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

an adbox will go here