সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য খোঁড়া হয়েছিল দুইটি কবর - দিগন্ত জার্নাল

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য খোঁড়া হয়েছিল দুইটি কবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ | কাদের চৌধুরীর জন্য শেষ মুহূর্তে খুঁড়ে রাখা হয়েছিল দুইটি কবর—একটি রাঙ্গুনিয়ায়, আরেকটি রাউজানে।

ফাঁসির মাত্র চার ঘণ্টা আগেও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী জানতেন না, যে দিনটি তাঁর জীবনের শেষ দিন। পরিবারের সদস্যরা যখন কারাগারে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে যান, তখন তাঁদের মুখ থেকেই প্রথমবারের মতো জানতে পারেন যে, আজই তাঁকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে হবে।

এমন আকস্মিক সংবাদে তিনি কিছুটা কষ্ট প্রকাশ করেন এবং জেলারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অন্তত আমাকে তো বলতে পারতি রে, একটা প্রিপারেশন নেওয়ার ব্যাপার আছে না?”

এরপর পরিবারের সদস্যদের তিনি জানান, ১৯৭৮ সালে রাঙ্গুনিয়ার জনগণের সামনে একটি বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর কবর রাঙ্গুনিয়াতেই হবে। তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা শোনার পরপরই চৌধুরী পরিবার রাঙ্গুনিয়ায় কবর খননের কাজ শুরু করে।

কিন্তু, ফাঁসি কার্যকরের পর জেলার স্পষ্ট জানিয়ে দেন—লাশ রাঙ্গুনিয়া নয়, রাউজানেই দাফন করতে হবে। চৌধুরী পরিবার অনেক চেষ্টা করেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাজিন সালমান এফ রহমানের মাধ্যমে  শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাফন রাঙ্গুনিয়ায় নয়, রাউজানেই করতে হবে।

ফলে রাউজানেও আরেকটি কবর খোঁড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, জীবিত অবস্থায় কারো কবর খোঁড়া শুরু হওয়া যেমন বিরল ঘটনা, তেমনি একজন শহীদের শেষ ইচ্ছাকে অস্বীকার করাও নজিরবিহীন।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পেছনে শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ব্যক্তিগত ক্ষোভ, রাগ এবং বিদ্বেষ কাজ করেছে বলে বহু মহল মনে করে। অভিযোগ রয়েছে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য প্রায় ১০০ জনের তালিকা জমা দেওয়া হলেও, শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রমিনেন্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া, রায়ের দুইদিন আগেই রায়ের পূর্ণ কপি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের হাতে পৌঁছে যায়। এ ঘটনা আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে অনেকে মনে করেন। প্রশ্ন থেকে যায়, রায় যদি আদালতে লেখা হয়ে থাকে, তাহলে তার কপি আগেভাগে বাইরে এল কীভাবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমোচনীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে—কীভাবে বিচারের নামে অন্যায় করা সম্ভব।

আর তাঁর জন্য খোঁড়া দুইটি কবর হয়ে থাকবে স্বৈরাচারী দমননীতির এক জীবন্ত চিহ্ন।

অনেকে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলেন। তবে সমালোচকদের ভাষায়, ‘শুধু ফ্যাসিস্ট শব্দ দিয়ে শেখ হাসিনাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।’ কারণ, ফ্যাসিস্টরা কেবল জীবিত মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, কিন্তু শেখ হাসিনা এক শহীদের শেষ ইচ্ছা ও লাশের অধিকারও কেড়ে নিয়েছিলেন।

an adbox will go here