রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে বিএনপির ক্ষোভ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
মঙ্গলবার, (৩০ এপ্রিল ২০২৫) অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মতে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বসংক্রান্ত বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন একটি অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ও নৈতিক কোনো এখতিয়ার নেই।
সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং পাশাপাশি ভারত ও চীনের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, রাখাইনের বাস্তব পরিস্থিতি, সরকার কী করছে এবং কী ধরনের শর্তে করিডোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে—এসব বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে তারা তুলে ধরবে, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ কতটা অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা পত্র-পত্রিকায় জেনেছি, সরকার মানবিক করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেটি কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী শর্তে তা করা হচ্ছে, তা আমরা জানি না। সরকারের উচিত এ বিষয়ে জাতিকে পরিষ্কারভাবে জানানো।”
বৈঠকে বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আরাকান আর্মিকে কোণঠাসা করতে সব ধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
নেতারা আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যা ইতোমধ্যেই দেশের জন্য বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ রাখাইনে মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করলেও করিডোর দেওয়ার আগে প্রতিবেশী শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিএনপির মতে, একটি চরম স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরকার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতৈক্য ছাড়া একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সরকারের উচিত জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।