বিমানবাহিনীর ‘আকাশ বিজয়’ মহড়ায় প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের - দিগন্ত জার্নাল

বিমানবাহিনীর ‘আকাশ বিজয়’ মহড়ায় প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার, (১ মে ২০২৫) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করি, যেখানে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি আসছে। এ অবস্থায় যুদ্ধের প্রস্তুতি না রাখাটা আত্মঘাতী।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিকটবর্তী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থার মধ্যে রয়েছে।” বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সেনা ও নৌবাহিনী প্রধান, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি যুদ্ধবিরোধী মানুষ। তবে এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে যুদ্ধের সম্ভাবনা ঘিরে আছে। তাই প্রস্তুতি থাকা অপরিহার্য। আধা-আধা প্রস্তুতির সুযোগ নেই। কারণ যুদ্ধে জয়ই একমাত্র গন্তব্য।”

তিনি জানান, যুদ্ধ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। “বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি লুট হয়ে গেছে” বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে আত্মরক্ষা ও সাহসিকতার অনুপ্রেরণা দিতেই যুদ্ধপ্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিমানবাহিনী দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহণ বিমান এবং রাডার সংযোজনের মাধ্যমে বাহিনীটিকে সহযোগিতা করছে।”

বুধবার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকারে মহড়ার চূড়ান্ত পর্যায় অনুষ্ঠিত হয়। ‘আকাশ বিজয়’ মহড়া শুরু হয় ২৩ এপ্রিল, যার সমাপনী আয়োজন ছিল এই দিনটি। এতে অংশ নেয় বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহণ বিমান, ইউএভি, রাডার এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট। আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে সেনা, নৌ, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসির প্রতিনিধিরাও অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই মহড়ার মাধ্যমে বিমানবাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং বিদ্যমান দুর্বলতা চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এতে বাহিনীর সম্পদ দুটি ভাগে ভাগ করে কৌশলগতভাবে অনুশীলন পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে এয়ার চিফ মার্শাল প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

বন্যাকবলিতদের জন্য ঘর প্রদান
একই দিনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বিতরণ করেন। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরহারা এসব পরিবার ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার। ফেনীতে ১১০টি, নোয়াখালীতে ৯০টি, কুমিল্লায় ৭০টি এবং চট্টগ্রামে ৩০টি ঘর বিতরণ করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রকল্প দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রতীক। আমাদের উন্নয়ন শুধু সামরিক শক্তি নয়, মানবিক সহানুভূতির ওপরও নির্ভর করে।”

an adbox will go here