বিএনপির মিত্রদের নির্বাচনি তৎপরতা বাড়ছে, রোডম্যাপের অপেক্ষায় দলগুলো
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, (১ মে ২০২৫) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি রোডম্যাপও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন সম্ভাবনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে। প্রচারণা ও গণসংযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা, বিশেষত বিএনপির মিত্রদলগুলোর নেতারা এলাকায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপি সূত্র বলছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু না হলেও শীর্ষ পর্যায় থেকে মিত্রদের প্রস্তুতির জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। নেতারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা করলেই আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদলগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে একমত হয়েছে এবং দ্রুত নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখনো রোডম্যাপ ঘোষণা না হওয়ায় আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়নি।
মিত্রদলগুলোর একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, জোটগত নির্বাচন হলে ঢাকায় অন্তত তিনটি আসন তারা চায় এবং রোডম্যাপ প্রকাশ হলে তারা পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনি কর্মকাণ্ড জোরদার করবে। বিগত দেড় দশকে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে দাবি করে তারা বলেন, এবার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
বিএনপির কেন্দ্র থেকে মিত্রদলগুলোর নেতাদের সহায়তায় মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন যেসব মিত্র নেতারা, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মাহমুদুর রহমান মান্না (গণতন্ত্র মঞ্চ, বগুড়া-২)
সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা-৮ ও বাগেরহাট-১)
আ স ম আবদুর রব (জেএসডি, লক্ষ্মীপুর-৪)
জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ ও ঢাকা-১২)
আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি, ভোলা সদর ও ঢাকার একটি আসন)
শাহাদাত হোসেন সেলিম (এলডিপি, লক্ষ্মীপুর-১)
ড. রেদোয়ান আহমেদ (এলডিপি, কুমিল্লা-৭)
অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা (১২-দলীয় জোট, কিশোরগঞ্জ-৫)
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (এনপিপি, নড়াইল-২)
আহসান হাবিব লিংকন (জাতীয় পার্টি-জাফর, কুষ্টিয়া-২)
ববি হাজ্জাজ (এনডিএম, ঢাকার একটি আসন)
শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন (জেএসডি, ফেনী-৩)
নুরুল হক নুর ও রাশেদ খান (গণঅধিকার পরিষদ, পটুয়াখালী-৩ ও ঝিনাইদহ-২)
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জামালপুর-৫)
অধ্যাপক ওমর ফারুক (এলডিপি, চট্টগ্রাম-১৪)
নুরুল আলম (চট্টগ্রাম-৭)
ড. আওরঙ্গজেব বেলাল (ময়মনসিংহ-৮)
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ (ময়মনসিংহ-১০)
অধ্যাপিকা মোছা. কারিমা খাতুন (জয়পুরহাট-২)
আব্দুল মতিন সাউদ (বিজেপি, ঢাকা-৫)
রাশেদ প্রধান ও ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (জাগপা, পঞ্চগড়-১ ও ২)
এছাড়াও, গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ঢাকায় এবং লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি তৎপরতায় রয়েছেন।
নেতারা জানিয়েছেন, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, হাট-বাজারে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, মিত্রদলগুলোর তৎপরতা ততই জোরদার হচ্ছে।
আপনি কি চান এই প্রতিবেদনটি আরও সংক্ষিপ্ত করে ওয়েবসাইটের জন্য উপযোগীভাবে তৈরি করে দেওয়া হোক?