বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তানিয়া আমিরের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং - দিগন্ত জার্নাল

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তানিয়া আমিরের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার, (১ মে ২০২৫) ২০০৯ সালের বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) বিদ্রোহ নিয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানিয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত তানিয়া আমিরের বক্তব্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি তার পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডারই প্রতিফলন।”

প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’-এ দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পেছনের সত্য উদঘাটনে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তদন্ত কমিশনের গঠন ও কার্যক্রম:
২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর, সরকার সাত সদস্যের একটি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে, যার নেতৃত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমান। ইতোমধ্যে কমিশন প্রায় ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে, যাদের মধ্যে আছেন অফিসার, বিডিআর কর্মী এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। কমিশন জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির প্রকৃত প্রকৃতি উন্মোচন, সকল দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র তদন্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কমিশন ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে জনগণকে গোপনীয়তা নিশ্চিত করে তথ্য বা সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ও সাক্ষীগ্রহণ:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তদন্তের স্বচ্ছতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, প্রয়োজনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকেও ডাকা হতে পারে।

বিচার ও মুক্তির বিষয়টি:
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহ-সম্পর্কিত মামলায় কয়েকশ’ সাবেক সদস্যকে জামিন দেওয়া হয়। যদিও তানিয়া আমির দাবি করেন, এসব মুক্তি কোনও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই হয়েছে, প্রেস উইং তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, জামিন আদালতের মাধ্যমেই হয়েছে। নিহত অফিসারদের পরিবার এই মুক্তির বিরোধিতা করে এবং পুনরায় অভিযোগ দায়েরসহ ন্যায়বিচার না পেলে আন্দোলনের ইঙ্গিত দেয়।

নিহতদের স্মরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি:
সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং পিলখানায় নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে শহীদের মর্যাদা প্রদান করে।

তানিয়া আমিরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা:
বিবৃতিতে বলা হয়, তানিয়া আমির ও তার বাবা ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম ২০২৩ সালের নভেম্বরে কুষ্টিয়া-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তার পারিবারিক ইতিহাস আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, এবং তাকে দলটির রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়।

জেনেভা সম্মেলনের মন্তব্য ও বিশ্লেষণ:
প্রেস উইংয়ের মতে, জেনেভা সম্মেলনে তানিয়া আমির ও অন্য বক্তারা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করে পুরনো বিরোধী দলের প্রচারিত দাবিগুলোই পুনরাবৃত্তি করেছেন, যা নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠতার পরিপন্থী।

an adbox will go here