আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার,(৩ মে ২০২৫) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বছরের ১৬ মার্চ এই রায় ঘোষণা করলেও আজ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হলো।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্মম নির্যাতনে নিহত হন ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। ফেসবুকে ভারতবিরোধী একটি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাত ৮টার দিকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। রাতভর দুই দফায় পিটিয়ে রাত ৩টার দিকে তার নিথর দেহ পাওয়া যায় হলের সিঁড়ির মাঝামাঝি। ঘটনার ভয়াবহতায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে সারা দেশ। বুয়েটসহ দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আন্দোলন। ফলে সরকারকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হতে হয়।
হত্যার পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে, মাত্র ৩৭ দিনের মধ্যে, তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন ডিবির পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার (অপু), মেহেদী হাসান রবিন (শান্ত), ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম (তানভির), হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মো. মিজানুর রহমান মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মোর্শেদ (অমর্ত্য ইসলাম), এহতেশামুল রাব্বি (তানিম), মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল (জিসান), মুজতবা রাফিদ— যাদের মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন: অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, মো. আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মো. মোয়াজ (আবু হোরায়রা)।
২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে আসে। এরপর কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিচারপতি বেঞ্চ মামলাটির শুনানির উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের সারাংশ ঘোষণা হয় ২০২৪ সালের মার্চে এবং আজ প্রকাশিত হয় এর পূর্ণাঙ্গ রায়।
আবরার হত্যাকাণ্ডের পর দেশের শিক্ষাঙ্গনজুড়ে যে আন্দোলনের ঢেউ উঠেছিল, তা আজো স্মরণে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বিগত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও আবরারের নাম ছিল একটি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে। তার নামে সে সময় বহু স্লোগান উঠেছিল, ব্যানার বহন করা হয়েছিল। আজকের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রকাশ সেই দাবির প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ জবাব হিসেবে বিবেচনা করছেন শিক্ষার্থীরা।